মাথাভাঙা, ৪ জুন
কোচবিহার জেলার মাথাভাঙ্গা এলাকায় আবাস যোজনার নামে কাটমানি তোলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। গ্রামবাসীদের বিক্ষোভের মুখে পড়ে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা তথা সিভিক ভলান্টিয়ার শহিদুল মিয়া নিজের বাড়ির ঘরের খাটের তলায় লুকিয়ে আশ্রয় নেন বলে অভিযোগ। তবে শেষরক্ষা হয়নি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাথাভাঙ্গা থানার পুলিশ তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এই ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে এলাকাজুড়ে চর্চা শুরু হয়েছে।
ঘটনাটি মাথাভাঙ্গা ১ নম্বর ব্লকের জোড়পাটকি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে আবাস প্রকল্পে নাম পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে এলাকার বহু মানুষের কাছ থেকে টাকা তুলেছেন শহিদুল মিয়া। অভিযোগ অনুযায়ী, কারও কাছ থেকে ৫ হাজার, কারও কাছ থেকে ১০ হাজার, আবার কারও কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৮ লক্ষ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে দাবি গ্রামবাসীদের।
এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরেই এলাকায় ক্ষোভ বাড়ছিল। সম্প্রতি গ্রামবাসীরা, বিশেষ করে এলাকার মহিলারা, শহিদুল মিয়ার বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং নেওয়া টাকা ফেরতের দাবি তোলেন। বুধবার সেই বিক্ষোভ আরও তীব্র আকার ধারণ করে। অভিযোগকারীরা দল বেঁধে শহিদুলের বাড়িতে পৌঁছে তাঁর বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন এবং কাটমানির টাকা ফেরতের দাবি জানান।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে খবর দেওয়া হয় মাথাভাঙ্গা থানায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অভিযোগ, সেই সময় শহিদুল মিয়া বাড়ির একটি ঘরের মধ্যে খাটের তলায় লুকিয়ে ছিলেন। পুলিশ তাঁকে সেখান থেকে উদ্ধার করে নিরাপত্তার স্বার্থে থানায় নিয়ে আসে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত বহু মানুষ পুরো ঘটনার ভিডিও রেকর্ড করেন, যা পরে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, আবাস প্রকল্পে সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার নাম করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয়েছে। বহু পরিবার আর্থিকভাবে দুর্বল হওয়া সত্ত্বেও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার আশায় টাকা দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সুবিধা না পাওয়ায় তাঁদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। সেই ক্ষোভই শেষ পর্যন্ত বিক্ষোভের রূপ নেয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তকে থানায় নিয়ে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতে তোলা হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলেও শোরগোল পড়ে গেছে। বিরোধীরা বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করতে শুরু করেছে। যদিও এই বিষয়ে তৃণমূলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া এখনও সামনে আসেনি। অন্যদিকে গ্রামবাসীদের দাবি, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য সামনে এনে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে এবং যাঁদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে, তাঁদের টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করতে হবে।
বর্তমানে গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে জোড়পাটকি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং এলাকায় যাতে নতুন করে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেদিকেও সতর্ক রয়েছে প্রশাসন।

