শিলিগুড়ি, ১০ জুন:
শিলিগুড়ি শহর সংলগ্ন মাটিগাড়ার খাপরেল মোড় এলাকায় নির্মীয়মান জাতীয় সড়কের একটি গভীর গর্তে পড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হল এক বাইক আরোহীর। বুধবার সকালে ঘটনাটি সামনে আসতেই এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে টানা বৃষ্টির মধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাইকসহ ওই গর্তে পড়ে যান যুবকটি। দীর্ঘ সময় গর্তের মধ্যেই পড়ে থাকায় ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে মনে করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মাটিগাড়ার ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে ফ্লাইওভার নির্মাণের কাজ চলছে। সেই কাজের জন্য রাস্তার পাশে একাধিক গভীর গর্ত খোঁড়া হয়েছে। বুধবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা ওই গর্তের মধ্যে একটি মোটরবাইকের অংশ দেখতে পান। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় সঙ্গে সঙ্গে মাটিগাড়া থানার পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ও দমকল বিভাগের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। উদ্ধারকারীরা গর্তে নেমে বাইক ও এক যুবককে উদ্ধার করেন। অচেতন অবস্থায় তাঁকে দ্রুত উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
মৃত যুবকের পরিচয় জানার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, তাঁর বয়স আনুমানিক ৩০ বছর। এছাড়াও জানা গিয়েছে, মাত্র এক মাস আগেই তিনি নতুন বাইকটি কিনেছিলেন। সেই বাইক নিয়েই দুর্ঘটনার কবলে পড়েন তিনি।
ঘটনার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, জাতীয় সড়কের নির্মাণকাজের জন্য খোঁড়া ওই বড় গর্তের চারপাশে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। গর্তের দুপাশে কোনও শক্তপোক্ত ব্যারিকেড, সতর্কতামূলক আলো কিংবা স্পষ্ট নির্দেশিকা বোর্ডও ছিল না বলে দাবি তাঁদের। টানা বৃষ্টির কারণে রাস্তার পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিল। সেই কারণেই অন্ধকারে বা বৃষ্টির মধ্যে গর্তটি চোখে না পড়ায় দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ, নির্মাণকাজে যুক্ত সংস্থা এবং জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণেই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। তাঁরা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন।
পুলিশ মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটল, যুবকটি কতক্ষণ ধরে গর্তে পড়ে ছিলেন এবং নির্মাণস্থলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কি না, সেই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখছে মাটিগাড়া থানার পুলিশ। ঘটনার জেরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

