শিলিগুড়ি , ১১ জুন
উত্তরবঙ্গের মিনি সচিবালয় উত্তরকন্যায় আজ অনুষ্ঠিত হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। রাজ্যের অর্থমন্ত্রী উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন বণিক সংগঠন ও শিল্পপতিদের সঙ্গে মুখোমুখি আলোচনায় বসেন। আসন্ন রাজ্য বাজেটকে সামনে রেখে এই বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী নিশিত প্রামাণিক এবং রাজ্যের পরিবহন ও অর্থ প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন। উত্তরবঙ্গের ব্যবসায়ী ও শিল্পমহলের প্রতিনিধিরা দীর্ঘদিনের নানা সমস্যা, দাবি এবং সম্ভাবনার বিষয়গুলি সরকারের সামনে তুলে ধরেন। বণিক সভার সদস্যদের বক্তব্য, অতীতে তাদের অনেক সমস্যার কথা সরকারের সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তবে আজকের বৈঠকে তারা খোলামেলা পরিবেশে নিজেদের মতামত এবং দাবি তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছেন।
বৈঠকে শিল্পোন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, পরিকাঠামো উন্নয়ন, পরিবহন ব্যবস্থা এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। ব্যবসায়ীদের মতে, উত্তরবঙ্গে শিল্পের প্রসার ঘটলে শুধু এই অঞ্চলের নয়, গোটা রাজ্যের অর্থনীতিই আরও শক্তিশালী হবে।
অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত বৈঠকের পর জানান, রাজ্যের কোষাগারের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন ও চ্যালেঞ্জপূর্ণ। তবে কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করছে এবং আগামী দিনেও করবে। তিনি বলেন, ডবল ইঞ্জিন সরকারের সমন্বিত প্রচেষ্টায় পশ্চিমবঙ্গের উন্নয়নের নতুন অধ্যায় শুরু হবে।
তিনি আরও জানান, আসন্ন রাজ্য বাজেটে শিল্প, ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের বিষয়গুলিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। এর আগে কলকাতায় বিভিন্ন বণিক সংগঠনের সঙ্গে বৈঠক করা হলেও এবার উত্তরবঙ্গের ব্যবসায়ী মহলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করা হলো।
অর্থমন্ত্রীর কথায়, শিলিগুড়ি উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার এবং অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র। ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং ব্যবসায়িক সম্ভাবনার কারণে এই অঞ্চলকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। শিলিগুড়ি থেকে বুলেট ট্রেন চলবে। উত্তরবঙ্গকে আরও শক্তিশালী অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও তিনি জানান।
এদিনের বৈঠককে উত্তরবঙ্গের শিল্প ও ব্যবসা মহলের জন্য ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট মহল। এখন নজর আসন্ন রাজ্য বাজেটের দিকে, যেখানে এই আলোচনার প্রতিফলন কতটা দেখা যায়, সেটাই দেখার।

