জলপাইগুড়ি, ১১ জুন:
জলপাইগুড়িতে ইন্ডিয়ান মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (আইএমএ)-এর কার্যালয়ে তালা ঝুলতে দেখে নির্ধারিত বৈঠক করতে এসে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হল সংগঠনের একাংশ সদস্য চিকিৎসকদের। বৃহস্পতিবার বিকেলে নির্ধারিত বৈঠকের উদ্দেশ্যে জলপাইগুড়ি শহরের আইএমএ ভবনের সামনে জড়ো হন বহু চিকিৎসক। তবে সেখানে পৌঁছে তাঁরা দেখতে পান কার্যালয়ের প্রধান দরজা বন্ধ রয়েছে এবং ভেতরে প্রবেশের কোনও সুযোগ নেই। ফলে পূর্বনির্ধারিত বৈঠক আর অনুষ্ঠিত করা সম্ভব হয়নি।
উপস্থিত সদস্যদের অভিযোগ, বৈঠকের বিষয়ে আগেই সংগঠনের সংশ্লিষ্ট পদাধিকারীদের জানানো হয়েছিল। এমনকি কার্যালয় খোলার জন্য তাঁদের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে এবং বার্তার মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু কোনও পক্ষ থেকেই সন্তোষজনক উত্তর পাওয়া যায়নি। ফলে বৈঠক কার্যত ভেস্তে যায় এবং সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষের সৃষ্টি হয়।
ঘটনাস্থলেই ক্ষোভ উগরে দেন উপস্থিত চিকিৎসকেরা। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই সংগঠনের অভ্যন্তরে নানা ধরনের অনিয়ম, অস্বচ্ছতা এবং ‘থ্রেট কালচার’-এর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বহু সদস্য বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুললেও তাঁদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ। এমনকি সংগঠনের স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করেন তাঁরা।
চিকিৎসকদের একাংশ জানান, অতীতেও বিভিন্ন সাংগঠনিক সমস্যা এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে অনেক সদস্যকে নানা চাপের মুখে পড়তে হয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁরা আর নীরব থাকতে রাজি নন। সংগঠনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এবং সদস্যদের মতামতের যথাযথ মূল্য দিতে তাঁরা একযোগে এগিয়ে এসেছেন।
তাঁদের বক্তব্য, আইএমএ একটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসক সংগঠন। তাই সংগঠনের ভাবমূর্তি ও কার্যকারিতা বজায় রাখতে অভ্যন্তরীণ সমস্যাগুলির দ্রুত সমাধান হওয়া জরুরি। সদস্যদের স্বার্থ রক্ষা এবং সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও সক্রিয় করে তুলতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিও তোলেন তাঁরা।
উপস্থিত চিকিৎসকেরা আরও জানান, তাঁরা কোনওরকম বিশৃঙ্খলা বা সংঘাতের পথে না গিয়ে আইনি ও সাংগঠনিক পদ্ধতিতেই সমস্যার সমাধান চান। সংগঠনের নিয়ম মেনেই ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে এবং সদস্যদের দাবিদাওয়া যথাযথভাবে তুলে ধরা হবে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে জলপাইগুড়ির চিকিৎসক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। আইএমএ-র অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যতে সংগঠনের কার্যক্রম কোন দিকে এগোয়, সেদিকেই এখন নজর রয়েছে সদস্যদের।

