আলিপুরদুয়ার, ১২ জুন:
দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর আলিপুরদুয়ার জেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হল ‘বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন’-এর আওতায় ১২৫ দিনের কর্মসংস্থান প্রকল্পের কাজ। শুক্রবার থেকে জেলার বিভিন্ন ব্লকে এই প্রকল্পের অধীনে কাজ শুরু হওয়ায় সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।
জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম পর্যায়ে আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাট, ফালাকাটা এবং কালচিনি ব্লকের একাধিক এলাকায় প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। মাদারিহাট ব্লকের ধুমচিপাড়া ও হাণ্টাপাড়া এলাকায় কর্মসূচির সূচনা করা হয়। একইসঙ্গে কালচিনি ব্লকের লতাবাড়ি এলাকায় এবং ফালাকাটা ব্লকের জটেশ্বর ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকাতেও প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে।
মাদারিহাট ব্লকে আয়োজিত কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আলিপুরদুয়ারের সাংসদ মনোজ টিগ্গা। তিনি শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং প্রকল্পের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।
এদিন সাংসদ মনোজ টিগ্গা বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে এই ধরনের কর্মসংস্থানমূলক কাজ কার্যত বন্ধ ছিল। অতীতে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল বলেও তিনি দাবি করেন। তাঁর বক্তব্য, সরকার পরিবর্তনের পর নতুনভাবে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই প্রকল্প চালু করা হয়েছে এবং প্রকল্পের কাঠামোতেও বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে।
তিনি জানান, আগে যে প্রকল্পটি এমজিএনআরইজিএ (MGNREGA) নামে পরিচিত ছিল, বর্তমানে তার পরিবর্তিত রূপ হিসেবে চালু হয়েছে ‘বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন’। নতুন ব্যবস্থায় গ্রামীণ এলাকার মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বাড়ানো হয়েছে। আগে বছরে ১০০ দিনের কাজের সুযোগ থাকলেও বর্তমানে এই প্রকল্পের আওতায় বছরে ১২৫ দিনের কাজ পাওয়ার সুযোগ থাকবে বলে তিনি জানান।
সাংসদের দাবি, এই প্রকল্প চালুর ফলে গ্রামীণ এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়ন যেমন ত্বরান্বিত হবে, তেমনই বেকার ও শ্রমজীবী মানুষের হাতে নিয়মিত কাজের সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে চা-বাগান অধ্যুষিত ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা এলাকাগুলির মানুষের জন্য এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
এদিন বিভিন্ন এলাকায় প্রকল্পের কাজ শুরুকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের মধ্যে উৎসাহ লক্ষ্য করা যায়। বহু মানুষ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন এবং দীর্ঘদিন পর আবার কর্মসংস্থানের সুযোগ পাওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী দিনে জেলার আরও বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় পর্যায়ক্রমে এই প্রকল্পের কাজ সম্প্রসারণ করা হবে। এর মাধ্যমে বৃহত্তর সংখ্যক গ্রামীণ পরিবারকে কর্মসংস্থানের আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
আলিপুরদুয়ার জেলায় ১২৫ দিনের কাজের এই নতুন প্রকল্প চালু হওয়াকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলেও যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই এখন নজর সকলের।

