মাথাভাঙা, ১৩ জুন:
শুক্রবার স্কুলে ১ ঘণ্টার টিফিন বিরতি দেওয়ার সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে মাথাভাঙা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে স্মারকলিপি জমা দিল হিন্দু জাগরণ মঞ্চ। শুক্রবার সংগঠনের পক্ষ থেকে এক প্রতিনিধি দল স্কুলে গিয়ে প্রধান শিক্ষকের হাতে লিখিত দাবি পেশ করে এবং অবিলম্বে এই নিয়মের পরিবর্তনের দাবি জানায়।
সংগঠনের অভিযোগ, সপ্তাহের অন্যান্য দিন স্কুলে টিফিনের জন্য ৩০ মিনিট সময় বরাদ্দ থাকলেও শুক্রবার ধর্মীয় কারণকে সামনে রেখে ১ ঘণ্টার টিফিন বিরতি দেওয়া হয়। তাদের দাবি, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সকল ছাত্রছাত্রীর জন্য একই নিয়ম প্রযোজ্য হওয়া উচিত। বিশেষ কোনও ধর্মীয় কারণকে কেন্দ্র করে আলাদা সময়সীমা নির্ধারণ করা হলে তা শিক্ষাঙ্গনের স্বাভাবিক পরিবেশের উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
হিন্দু জাগরণ মঞ্চের প্রতিনিধিরা জানান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হওয়া উচিত সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও সকলের জন্য সমান সুযোগের ক্ষেত্র। তাঁদের মতে, সপ্তাহের অন্য দিনগুলির মতো শুক্রবারও টিফিনের সময় ৩০ মিনিট রাখা উচিত। একই সঙ্গে তাঁরা দাবি করেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ধর্মীয় বিষয়কে প্রাধান্য না দিয়ে শিক্ষার স্বার্থ এবং ছাত্রছাত্রীদের একাডেমিক সময়ের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
এই দাবিকে সামনে রেখেই এদিন সংগঠনের সদস্যরা প্রধান শিক্ষকের হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন এবং বিষয়টি নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ করার আবেদন জানান। স্মারকলিপি জমা দেওয়ার সময় সংগঠনের একাধিক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষক জানান, শুক্রবার ১ ঘণ্টার টিফিন বিরতির এই ব্যবস্থা নতুন নয়, দীর্ঘদিন ধরেই স্কুলে এই নিয়ম চালু রয়েছে। তিনি বলেন, বিষয়টি তাঁর একার সিদ্ধান্তে পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। হিন্দু জাগরণ মঞ্চের দাবিপত্র গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন শিক্ষা কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হবে।
প্রধান শিক্ষক আরও জানান, শিক্ষা দফতর বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে যে নির্দেশ দেওয়া হবে, সেই অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে স্কুল কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মতামতের অপেক্ষায় রয়েছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাথাভাঙা এলাকায় আলোচনা শুরু হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে টিফিনের সময়সূচি নিয়ে ওঠা এই বিতর্ক আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে অভিভাবক, ছাত্রছাত্রী এবং শিক্ষা মহলের।

