জলপাইগুড়ি, ১৫ জুন:
ডুয়ার্সে মানুষ-হাতি সংঘাতের ঘটনা যেন ক্রমশ উদ্বেগজনক আকার ধারণ করছে। জঙ্গল সংলগ্ন এলাকায় বুনো হাতির হানা অব্যাহত থাকায় আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন চা বাগানের শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। এবার ডুয়ার্সের মাটিয়ালী ব্লক এলাকার জুরন্তি চা বাগান-এ বুনো হাতির হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। হাতির আক্রমণে একটি শ্রমিক আবাস ভাঙচুরের পাশাপাশি বাড়ি থেকে পালাতে গিয়ে আহত হয়েছেন এক ব্যক্তি। ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা শ্রমিক মহল্লায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার গভীর রাতে, আনুমানিক রাত দেড়টা নাগাদ একটি পূর্ণবয়স্ক বুনো হাতি জুরন্তি চা বাগানের সোমা লাইন এলাকায় ঢুকে পড়ে। সেই সময় অধিকাংশ বাসিন্দাই ঘুমিয়ে ছিলেন। আচমকাই হাতিটি একটি শ্রমিক পরিবারের বাড়িতে হামলা চালায়। হাতির আঘাতে বাড়ির বেড়া ও দেওয়ালের একাংশ ভেঙে যায়। ঘরের ভিতরে ঢুকে হাতিটি মজুত করে রাখা খাদ্যসামগ্রী, আসবাবপত্র এবং অন্যান্য গৃহস্থালির জিনিসপত্র নষ্ট করে দেয়।
হঠাৎ এই হামলায় পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। প্রাণ বাঁচাতে ঘর থেকে বেরিয়ে পালানোর সময় এক ব্যক্তি আহত হন বলে জানা গিয়েছে। যদিও তাঁর আঘাত গুরুতর নয়, তবুও ঘটনায় আতঙ্ক আরও বেড়েছে। পরিবারের সদস্যরা রাতের অন্ধকারে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটতে বাধ্য হন।
প্রায় এক ঘণ্টা ধরে এলাকায় তাণ্ডব চালানোর পর স্থানীয় বাসিন্দারা একত্রিত হয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি এবং বিভিন্ন শব্দ করে হাতিটিকে তাড়ানোর চেষ্টা করেন। এরপর হাতিটি ধীরে ধীরে এলাকা ছেড়ে জঙ্গলের দিকে চলে যায়। তবে রাতভর আতঙ্কে ঘুমহীন অবস্থায় কাটাতে হয় স্থানীয়দের।
সোমবার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সঙ্গে দেখা করতে ঘটনাস্থলে যান বিদ্যা বারলা। তিনি ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ খতিয়ে দেখেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি বনদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের কথাও জানান।
উল্লেখ্য, ডুয়ার্সে সাম্প্রতিক সময়ে হাতির হানার ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। মাত্র কয়েকদিন আগেই নাগেশ্বরী চা বাগান এলাকায় দিনের বেলায় হাতির আক্রমণে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের জুরন্তি চা বাগানে হাতির হামলার ঘটনায় আতঙ্ক আরও বেড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জঙ্গল সংলগ্ন এলাকায় নিয়মিত হাতির চলাচল থাকলেও পর্যাপ্ত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেই। ফলে প্রায়ই মানুষের জীবন ও সম্পত্তি ঝুঁকির মুখে পড়ছে। তাঁরা বনদপ্তরের কাছে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধ করা যায় এবং চা বাগান এলাকার মানুষ নিরাপদে বসবাস করতে পারেন।

