শিলিগুড়ি, ১৮ জুন:
আন্তর্জাতিক যোগ দিবসকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার সকালে শিলিগুড়ির ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি এলাকায় র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (RAF) ব্যাটালিয়নের উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য যোগ শিবির ও সচেতনতা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল সাধারণ মানুষের মধ্যে যোগব্যায়ামের গুরুত্ব ও উপকারিতা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং সুস্থ জীবনযাপনের বার্তা পৌঁছে দেওয়া।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন RAF ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার ওয়াংডেন ভুটিয়া, একাধিক অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড্যান্ট, রিজার্ভ ইন্সপেক্টর এবং রাজ্য পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের আধিকারিক ও কর্মীরা। এদিনের যোগ শিবিরে RAF এবং রাজ্য পুলিশের সদস্যরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। বিভিন্ন যোগাসন ও প্রণায়ামের মাধ্যমে শরীরচর্চা করার পাশাপাশি যোগের স্বাস্থ্যগত গুরুত্ব সম্পর্কেও আলোচনা করা হয়।
শুধু যোগ শিবিরেই সীমাবদ্ধ না থেকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে একটি সচেতনতা র্যালিরও আয়োজন করা হয়। ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি এলাকার বিস্তীর্ণ অংশ জুড়ে অনুষ্ঠিত এই র্যালির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে নিয়মিত যোগচর্চার প্রতি উৎসাহিত করা হয়। ব্যানার, প্ল্যাকার্ড ও সচেতনতামূলক বার্তা নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা যোগব্যায়ামের সুফল তুলে ধরেন।
সচেতনতা কর্মসূচির সূচনা করে কমান্ডিং অফিসার ওয়াংডেন ভুটিয়া বলেন, আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে দেশজুড়ে বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, চলতি বছর কলকাতায় অনুষ্ঠিত যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র অংশগ্রহণের কথা রয়েছে, যা যোগচর্চার প্রতি মানুষের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “যোগব্যায়াম শুধুমাত্র শরীরচর্চার একটি পদ্ধতি নয়, এটি একটি সামগ্রিক জীবনদর্শন। নিয়মিত যোগচর্চা মানুষের শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করে, মানসিক চাপ কমায় এবং সুস্থ জীবনযাপন নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। আমাদের ব্যাটালিয়নের সদস্যদের ক্ষেত্রেও যোগব্যায়াম শৃঙ্খলা, একাগ্রতা এবং মানসিক দৃঢ়তা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।”
ওয়াংডেন ভুটিয়া আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, ২০১৪ সালে ভারত সরকার আন্তর্জাতিক মঞ্চে যোগব্যায়ামের গুরুত্ব তুলে ধরার উদ্যোগ গ্রহণ করে এবং তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৫ সাল থেকে প্রতি বছর আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালন করা হচ্ছে। এ বছর সেই উদ্যোগ ১২ বছরে পদার্পণ করতে চলেছে। তাঁর মতে, ভারতের প্রাচীন ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হিসেবে যোগব্যায়াম আজ বিশ্বজুড়ে স্বীকৃতি অর্জন করেছে।
তিনি বিশেষভাবে নতুন প্রজন্মের উদ্দেশে বলেন, বর্তমান সময়ে প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাত্রা এবং ব্যস্ততার কারণে শারীরিক ও মানসিক নানা সমস্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে নিয়মিত যোগচর্চা তরুণ প্রজন্মকে সুস্থ, সক্রিয় ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তাই শিশু-কিশোর ও যুব সমাজের মধ্যে যোগব্যায়ামের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করা অত্যন্ত জরুরি।
কর্মসূচির শেষে অংশগ্রহণকারীরা আন্তর্জাতিক যোগ দিবসকে সফল করে তুলতে এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে যোগব্যায়ামের ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। RAF ব্যাটালিয়নের এই উদ্যোগকে এলাকাবাসীরাও সাধুবাদ জানান।

