ধূপগুড়ি, ১৮ জুন:
বর্ষার শুরুতেই নদীর জলস্ফীতিতে ভেসে গেল নির্মীয়মাণ সেতুর বিকল্প হিসেবে তৈরি অস্থায়ী ডাইভারশন। ফলে কার্যত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে ধূপগুড়ি ব্লকের একটি গ্রাম। নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজ থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজে যাতায়াত—সব ক্ষেত্রেই চরম সমস্যার মুখে পড়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। ঘটনাটি ঘটেছে ধূপগুড়ি ব্লকের গধেয়ারকুঠি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার দইখাওয়া নদীর উপর নির্মীয়মাণ সেতুর কাছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই নদীর জলস্তর দ্রুত বাড়তে শুরু করে। তার জেরে নদীর উপর নির্মীয়মাণ দইখাওয়া সেতুর পাশে সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য তৈরি করা অস্থায়ী ডাইভারশনটি সম্পূর্ণভাবে ভেসে যায়। এর ফলে এলাকার বহু মানুষ এবং স্কুলপড়ুয়াদের বিকল্প দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে বাধ্য হতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রায় ১০ কিলোমিটার ঘুরপথে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৪ অক্টোবর ভয়াবহ বন্যায় দইখাওয়া নদীর উপর পুরনো সেতুটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরবর্তীতে প্রশাসনের উদ্যোগে নতুন সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত পুরনো সেতুটি ভেঙে ফেলা হয়। সেতু নির্মাণ চলাকালীন সাধারণ মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে একটি অস্থায়ী ডাইভারশন তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু বর্ষার প্রথম দিকেই সেই ডাইভারশন ভেসে যাওয়ায় নতুন করে সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।
এদিন সকাল থেকেই এলাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভের পরিবেশ তৈরি হয়। বহু স্কুলপড়ুয়াকে এক হাঁটু জল পেরিয়ে স্কুলে যেতে দেখা যায়। অভিভাবকদের অনেকেই সন্তানদের হাত ধরে নদী পার করিয়ে দেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন জীবন হাতে নিয়ে বগরিবাড়ি বাজার এবং গিদালপাড়া এলাকায় যাতায়াত করতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা বিনোদ রায় এবং শুধাংশু রায় জানান, গত বছরের বন্যায় সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর নতুন সেতুর কাজ শুরু হলেও নির্মাণকাজ অত্যন্ত ধীর গতিতে এগোচ্ছে। তাঁদের দাবি, কাজের বর্তমান গতি দেখে মনে হচ্ছে চলতি বছরও সেতুর নির্মাণ শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম। ফলে প্রতিদিনই ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, বাজারে যাওয়া, চিকিৎসার জন্য বাইরে যাওয়া কিংবা জরুরি পরিস্থিতিতে যোগাযোগ রক্ষা করা এখন অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় বা কোনও অসুস্থ ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হলে বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কা রয়েছে। বর্ষায় নদীর জল আরও বাড়লে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।
এলাকার দুধ ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, “প্রতিদিন দুধ নিয়ে নদীর ওপারে যেতে হয়। কিন্তু ডাইভারশন ভেসে যাওয়ার কারণে এখন আর যেতে পারছি না। নদীর একপাশে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। এতে শুধু আমার নয়, বহু মানুষের জীবিকা ও দৈনন্দিন কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে।”
স্থানীয়দের দাবি, বর্ষা আরও জোরদার হওয়ার আগেই প্রশাসনকে দ্রুত বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করতে হবে এবং নির্মীয়মাণ সেতুর কাজ দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় সামনের দিনগুলোতে এলাকার কয়েক হাজার মানুষকে আরও বড় দুর্ভোগের মুখোমুখি হতে হবে।
ঘটনার পর থেকেই এলাকাবাসীর নজর প্রশাসনের পদক্ষেপের দিকে। দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে বৃহত্তর আন্দোলনের পথেও হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছেন ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা।

