আলিপুরদুয়ার, ২৩ জুন:
আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাট ব্লকে মঙ্গলবার ভোররাতে ঘটে যাওয়া দুটি পৃথক পথ দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অল্প সময়ের ব্যবধানে ঘটে যাওয়া এই দুই ঘটনায় পুলিশ আবাসন ও একটি ট্রাফিক পোস্টের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যদিও সৌভাগ্যবশত কোনও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি এবং বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দুর্ঘটনাগ্রস্ত দুটি ভারী যানবাহনকে আটক করে তদন্ত শুরু করেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার ভোররাত প্রায় আড়াইটে নাগাদ একটি গৌহাটিগামী লরি মাদারিহাট থানার এলাকার মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। দ্রুতগতিতে ছুটে আসা লরিটি রাস্তা ছেড়ে থানার সংলগ্ন এলাকায় ঢুকে পড়ে এবং সজোরে এক পুলিশ আধিকারিকের আবাসনে ধাক্কা মারে। ধাক্কার তীব্রতায় আবাসনের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
তবে বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে কারণ ঘটনাটির সময় আবাসনের ভেতরে থাকা পুলিশ আধিকারিক ও অন্যান্য কর্মীরা নিরাপদে ছিলেন। কেউ শারীরিকভাবে আহত না হলেও আচমকা এই ঘটনায় তারা যথেষ্ট আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। দুর্ঘটনার অভিঘাতে আবাসনের দেওয়াল ও অন্যান্য কাঠামোগত অংশের ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে।
অন্যদিকে, একই রাতে মাদারিহাটের রাঙ্গালিবাজলা এলাকায় আরও একটি দুর্ঘটনা ঘটে। একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার ধারে থাকা ট্রাফিক পোস্টে সজোরে ধাক্কা মারে। ধাক্কার ফলে ট্রাফিক পোস্টের একটি বড় অংশ ভেঙে পড়ে এবং এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়। রাতের নীরবতা ভেঙে বিকট শব্দে স্থানীয় বাসিন্দারা ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
দুটি ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় মাদারিহাট থানার পুলিশ। পুলিশ কর্মীরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার পাশাপাশি দুর্ঘটনাগ্রস্ত লরি ও ট্রাকটিকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। প্রাথমিক তদন্তে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানা না গেলেও অতিরিক্ত গতি, চালকের অসাবধানতা অথবা যান্ত্রিক ত্রুটি—কোনও কারণ এর পেছনে রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, দুই ঘটনারই পৃথকভাবে তদন্ত শুরু হয়েছে। দুর্ঘটনাগ্রস্ত যানবাহনের চালকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্রও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও যান নিয়ন্ত্রণে আরও কড়াকড়ি করার বিষয়েও ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে।
একই রাতে মাদারিহাট ব্লকের দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরপর এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদিও প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে, তবুও ঘটনাগুলি ফের একবার সড়ক নিরাপত্তা ও ভারী যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এখন তদন্তের রিপোর্টের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে প্রশাসন ও সাধারণ মানুষ।

