বক্সিরহাট, ২৬ জুন
পরিবহনের রয়েলটি থাকা সত্ত্বেও পুলিশ পাথর বোঝাই ডাম্পার আটক করে মামলা করায় বিতর্ক দানা বেধেছে। বৃহস্পতিবার রাতে বক্সিরহাটের সংকোশ নাকা চেকিং পয়েন্টের ঘটনা। পুলিশ সূত্রে খবর, ডাম্পারে করে পাথর পরিবহন চললেও চালানে পাথর কথার উল্লেখ ছিল না, তাই স্বত:প্রণোদিত মামলা করা হয়েছে।
যদিও গাড়ির মালিক এবং রয়েলটি হোল্ডারদের দাবি, সরকারি অনুমোদিত চালানে আলাদা করে পাথর কথার উল্লেখ থাকে না। এটা নতুন বিষয় নয়। যা নিয়ে শুক্রবার পুলিশের বিরুদ্ধে গাড়ির মালিক থেকে রয়েলটি হোল্ডাররা প্রতিবাদে সরব হয়েছে। তাঁরা জানিয়েছে, প্রয়োজনে আমরা আদালতের দ্বারস্থ হব।
জানা গেছে, কোচবিহার জেলার নদীগুলি আপাতত বালি- পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকলেও আলিপুরদুয়ার জেলায় তা চালু রয়েছে। বৃহস্পতিবার কুমারগ্রাম ব্লকের সংকোশ নদী সংলগ্ন ভলকা সরকারি অনুমোদিত খাদান থেকে একটিতে বালি অপর ডাম্পরে পাথর তুলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই কোচবিহারের উদ্দেশ্যে রওনা দেন চালকরা।
ডাম্পার চালক রনি রায় বলেন,আলিপুর জেলার সীমানা ছাড়াতেই কোচবিহার জেলার সংকোশ নাকা চেকিং পয়েন্টে দুটি ডাম্পারকে দার করিয়ে পরিবহনের নথি দেখাতে বলে বক্সিরহাট থানার জোড়াই ফাঁড়ির পুলিশ। পরিবহনের বৈধ নথি দেখানো হলে পুলিশ বালি বোঝাই ডাম্পার ছেড়ে দিলেও পাথর বোঝাই গাড়িটিকে আটক করে মামলা দায়ের করে। পুলিশ আমাদের জানায়, পরিবহনের চালানে পাথর কথার উল্লেখ নেই।
এ নিয়ে কোচবিহারের বাসিন্দা গাড়ির মালিক শুভ্র কর বলেন, চালকের মুখে বিষয়টি জানতে পেরে আমি পুলিশকে বোঝানোর চেষ্টা করি সরকারি অনুমোদিত চালনে আলাদা করে পাথর কথার উল্লেখ থাকে না। পুলিশ আমার কথায় কর্ণপাত না করে মামলা দায়ের করে। আমি বিষয়টি নিয়ে রয়েলটি হোল্ডারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনিও একই কথা জানিয়েছেন। আমার আশঙ্কা এভাবে চলতে থাকলে গাড়ি মালিকরা প্রত্যেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি আরও জানান, বছরের পর বছর ধরে চালানে পাথর কথার উল্লেখ না থাকলেও হঠাৎ করে বক্সিরহাট পুলিশ কেন আজগুবি দাবি করছে। পরিবহনের চালান কারও ব্যক্তিগত নয়, সরকারি পোর্টাল থেকে হচ্ছে। কেন পুলিশ প্রশাসন সেই দপ্তরকে বোঝাতে পারছে না। কেন এই বিষয় নিয়ে আমাদের হেনস্থার শিকার হতে হবে। মিথ্যা মামলা করায় আমরা পুলিশের বিরুদ্ধে আইনি পথে হাটব।
একই অভিযোগে সরোব হয়েছেন কুমারগ্রামের বাসিন্দা ভলকা সরকারি অনুমোদিত রয়েলটি হোল্ডার বুদেন রায়। তিনি জানান, আমরা দীর্ঘদিন ধরে রয়েলটির সাথে জড়িত।কোথাও কোনও চালানে আলাদা করে পাথর কথার উল্লেখ থাকে না। হঠাৎ করে পুলিশ কেন গাড়ি চালকদের আটক করে মামলা করছেন আমরা ঠিক বুঝতে পারছি না।

