আলিপুরদুয়ার, ২৫ জুন:
ভুয়ো তপশিলি জাতি (এসসি) শংসাপত্র জমা দিয়ে পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন আলিপুরদুয়ার জেলার সাতাঁলি গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান কমলা দেবী শাহ এবং তাঁর স্বামী রমেশ প্রসাদ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ, গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে সংরক্ষিত আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য কমলা দেবী শাহ তপশিলি জাতির ভুয়ো শংসাপত্র ব্যবহার করেছিলেন। ওই শংসাপত্রের ভিত্তিতেই তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন এবং পরে গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান পদে নির্বাচিত হন বলে অভিযোগকারীদের দাবি। বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠছিল এবং অভিযোগও জমা পড়েছিল সংশ্লিষ্ট দপ্তরে।
তদন্তে নেমে পুলিশ অভিযোগের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখে। তদন্তের ভিত্তিতেই কমলা দেবী শাহ এবং তাঁর স্বামী রমেশ প্রসাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার তাঁদের আলিপুরদুয়ার আদালতে পেশ করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভুয়ো শংসাপত্র ব্যবহারের অভিযোগ ছাড়াও তাঁদের বিরুদ্ধে জমি দখল, দুর্নীতি এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার-সহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাই করতে তদন্তকারীরা বিভিন্ন নথিপত্র সংগ্রহ করছেন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলছেন।
স্থানীয় সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠছিল। তবে সাম্প্রতিক তদন্তে নতুন কিছু তথ্য সামনে আসার পরই পুলিশ সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, অভিযোগের সমস্ত দিক গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে আরও তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করা হবে।
এই গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে জেলার রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির পক্ষ থেকে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
তবে আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের আইনত দোষী বলা যায় না। এখন তদন্ত কোন দিকে এগোয় এবং আদালতের পর্যবেক্ষণ কী হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে প্রশাসন, রাজনৈতিক মহল এবং সাধারণ মানুষের।

