শিলিগুড়ি , ২৫ জুন
বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মা ও ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে শিলিগুড়ির ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের ভবসুন্দর কলোনি এলাকায়। বুধবার গভীর রাতে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই ঘটনায় আরও এক মহিলা আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
মৃতদের নাম প্রমিলা রায় এবং তাঁর ছেলে রাজু রায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার রাতে বাড়িতে হঠাৎ শর্ট সার্কিটের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, সেই শর্ট সার্কিটের জেরে কোনওভাবে বাড়ির বিভিন্ন অংশে বিদ্যুৎ সংযোগ ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সম্পর্কে পরিবারের সদস্যরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঘটে যায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা।
জানা যায়, বিশেষভাবে সক্ষম প্রমিলা রায় বাড়ির জানালার লোহার গ্রিলে হাত দিতেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। মুহূর্তের মধ্যে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। মাকে ওই অবস্থায় দেখে তাঁকে উদ্ধার করতে ছুটে যান ছেলে রাজু রায়। কিন্তু মাকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে গিয়েই তিনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাটি এত দ্রুত ঘটে যে তাঁদের উদ্ধার করার সুযোগই মেলেনি।
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, ঘটনাস্থলেই মা ও ছেলের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় আতঙ্ক ও শোকের পরিবেশ তৈরি হয়। প্রতিবেশীরা ছুটে এসে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে খবর দেন।
এদিকে একই এলাকার আরও এক মহিলা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছেন বলে জানা গেছে। তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে সেবক রোডের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁর চিকিৎসা চলছে।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ভক্তিনগর থানার পুলিশ এবং বিদ্যুৎ বণ্টনকারী সংস্থার কর্মীরা। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হয়। পরে পুলিশ মা ও ছেলের দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে পাঠায়।
ঘটনার খবর পেয়ে এলাকায় পৌঁছান প্রাক্তন কাউন্সিলর শোভা সুব্বাও। তিনি মৃতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানান।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কীভাবে শর্ট সার্কিটের জেরে বাড়ির বিভিন্ন অংশে বিদ্যুৎ ছড়িয়ে পড়ল এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ কী, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও বিদ্যুৎ দফতর।

