শিলিগুড়ি, ১০ জুলাই:
বেতন বৃদ্ধি, চাকরির নিরাপত্তা, স্থায়ীকরণসহ একাধিক দাবিতে মঙ্গলবার উত্তরকন্যা অভিযানে সামিল হন ন্যাশনাল স্কিল কোয়ালিফিকেশন ফ্রেম (NSQF)-এর সদস্যরা। বিভিন্ন জেলা থেকে আসা শিক্ষক ও কর্মীরা শিলিগুড়িতে একত্রিত হয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নেন। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেও এখনও পর্যন্ত ন্যায্য বেতন, চাকরির নিশ্চয়তা এবং প্রাপ্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে তাঁরা বঞ্চিত।
সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত চালু থাকা স্কিলভিত্তিক শিক্ষা প্রকল্প পূর্বতন সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের নির্ধারিত নীতিমালা ও নির্দেশিকা যথাযথভাবে অনুসরণ না করেই পরিচালনা করেছে। এর ফলে প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষক ও কর্মীদের কর্মসংস্থান অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি প্রকল্পটি বিভিন্ন বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন আন্দোলনকারীরা।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি ও সরকার-পোষিত বিদ্যালয়ে কর্মরত NSQF-এর শিক্ষক ও কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। অথচ তাঁদের কর্মসংস্থানের কোনও স্থায়ী নিশ্চয়তা নেই। প্রতি বছর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অনিশ্চয়তার মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে বেতন কাঠামোতেও বৈষম্য রয়েছে বলে তাঁদের অভিযোগ। এই পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান তাঁরা।
মঙ্গলবার নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী উত্তরকন্যার উদ্দেশে মিছিল নিয়ে রওনা দেন আন্দোলনকারীরা। তবে তিনবাত্তি মোড়ে পৌঁছতেই পুলিশ তাঁদের পথ আটকে দেয়। সেখানে কিছুক্ষণ বিক্ষোভ ও স্লোগান চলার পর প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হয়। পরে পুলিশের অনুমতিতে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল উত্তরকন্যায় গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হাতে স্মারকলিপি ও দাবিপত্র জমা দেন।
আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, আগামী ১৫ আগস্টের মধ্যে তাঁদের দাবিগুলি নিয়ে সরকার ইতিবাচক পদক্ষেপ না করলে রাজ্যজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। প্রয়োজনে লাগাতার আন্দোলন, অবস্থান বিক্ষোভ এবং আরও কঠোর কর্মসূচির পথেও হাঁটার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা।
এদিনের কর্মসূচিকে ঘিরে তিনবাত্তি মোড় ও উত্তরকন্যা সংলগ্ন এলাকায় কড়া পুলিশি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। যদিও পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ থাকে এবং কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
এখন আন্দোলনকারীদের দাবি নিয়ে রাজ্য সরকার কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেই নজর রয়েছে NSQF-এর শিক্ষক-কর্মী মহলের।

