আলিপুরদুয়ার, ১০ জুলাই:
বুনো হাতির হানায় মৃত্যু হল এক ব্যক্তির। ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমারগ্রাম এলাকার উত্তর হলদিবাড়িতে চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। মৃত ব্যক্তির নাম বিশ্রাম ওঁরাও। তিনি উত্তর হলদিবাড়ি এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি একটি বুনো হাতির দল লোকালয়ের কাছাকাছি চলে আসে। বনকর্মীরা হাতির দলটিকে জঙ্গলে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং একসময় তাদের জঙ্গলের দিকে পাঠাতেও সক্ষম হন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর ফের ওই হাতির দলের একটি হাতি লোকালয়ের কাছাকাছি চলে আসে। সেই সময়ই হাতিটির আক্রমণের শিকার হন বিশ্রাম ওঁরাও।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার অর্জুন খরিয়া নামে এক প্রতিবেশীর বাড়িতে ছিলেন বিশ্রাম ওঁরাও। ওই দিন অর্জুন খরিয়ার স্ত্রীর মৃত্যু হয়েছিল। মৃত্যুর পর সৎকারের আগে প্রচলিত কিছু নিয়ম ও আচার পালনের জন্যই বিশ্রাম ওঁরাও সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
ঘটনার রাতে এলাকায় বৃষ্টি হচ্ছিল। আচারের কাজ চলাকালীন কোনও এক সময় শৌচকর্মের জন্য বাড়ির বাইরে বের হন বিশ্রাম ওঁরাও। সেই সময় আচমকাই সামনে চলে আসে বুনো হাতিটি। কিছু বুঝে ওঠার আগেই হাতিটি তাঁকে আক্রমণ করে। হাতির হামলায় ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানা যায়।
রাতের অন্ধকার ও বৃষ্টির কারণে ঘটনার বিষয়টি তৎক্ষণাৎ কেউ বুঝতে পারেননি। শুক্রবার ভোরে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা বিশ্রাম ওঁরাওকে খুঁজতে শুরু করেন। পরে বাড়ির কাছাকাছি এলাকায় তাঁকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
ঘটনার খবর পেয়ে বনদপ্তরের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। পাশাপাশি হাতির গতিবিধির ওপর নজরদারি শুরু করা হয়েছে। বনদপ্তরের পক্ষ থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আবেদন জানানো হয়েছে।
শুক্রবার সকালে মৃত বিশ্রাম ওঁরাওয়ের বাড়িতে যান রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওঁরাও। তিনি মৃতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের সমবেদনা জানান এবং পাশে থাকার আশ্বাস দেন।
বনমন্ত্রী বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। মৃতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পরিবারের সদস্যদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।”
এলাকাবাসীর দাবি, জঙ্গল লাগোয়া এলাকায় হাতির আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। রাতের বেলায় হাতির হানা রুখতে বনদপ্তরকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তাঁরা।
ক্রমাগত মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাতের ঘটনায় উত্তরবঙ্গের জঙ্গল সংলগ্ন এলাকাগুলিতে ফের নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের আশা, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রুখতে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে প্রশাসন।

