নিজস্ব সংবাদদাতা, ৩০ এপ্রিল :
কোচবিহার থেকে ৮২৬ কিমি দূরে বারাণসীতেই যেন রয়েছে একটুকরো কোচবিহার। বাঙালিদের দ্বিতীয় বাড়ি বলা হয় বারাণসীকে। কান পাতলেই শোনা যায়, সেখানকার একেক অলিগলির একেক কাহিনীর। বারাণসীর সোনারপুরা এলাকার বাঙালিটোলাতেই এখনো ঠায় দাঁড়িয়ে আছে “কোচবিহার কালীবাড়ি”। প্রায় ২০০ ধরে এই মন্দিরটি এক ভুলে যাওয়া ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করে চলেছে।
কোচবিহারের মহারাজা হরেন্দ্রনারায়ণ ভূপ বারাণসীতে এই “কোচবিহার কালীবাড়ি” স্থাপনার উদ্যোগ নেন। মহারাজা হরেন্দ্রনারায়ণ আনুমানিক ১৮ শতকের শেষ থেকে ১৯ শতকের শুরুর দিকে সমস্ত রাজকার্য থেকে অবসর নিয়ে বারাণসীতে এই কালী মন্দির ও তৎসংলগ্ন একটি রাজভবন নির্মাণের কাজও শুরু করেন। কিন্তু মন্দির নির্মাণের কাজ সম্পন্ন না হতেই ১৮৩৯ সালে তার মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে তার জ্যেষ্ঠপুত্র মহারাজা শিবেন্দ্রনারায়ণ অসমাপ্ত মন্দিরের কাজ সুসম্পন্ন করেন। চ্যাপ্টা লাল ইটের অপরূপ কারুকার্য বিশিষ্ট মন্দিরটির ১৮৪৬ সালের ৭ই মে মাসে দ্বারউদ্ঘাটন হয়। সেই থেকে আজও সেখানে বিরাজিত রয়েছেন দয়াময়ী কালী ও করুণাময়ী কালী। বর্তমানে মন্দিরটি দেবোত্তর ট্রাস্টের অধীনে পরিচালিত হয়।

প্রাচীন এই “কোচবিহার কালীবাড়ি” একসময় বেশ জাঁকজমকপূর্ণ ছিল। কিন্তু এখন সেখানের গোটা চিত্রই বদলে গেছে। পরিচর্চা ও সংস্কারের অভাবে ভেঙে পড়ছে মন্দিরের দেওয়াল। যত্রতত্র ছড়িয়ে থাকছে আবর্জনা স্তুপ। আগে দয়াময়ী কালী মা এবং করুণাময়ী কালী মায়ের পুজো হতো নিয়ম নিষ্ঠা সহকারে। এখন আর সেসবের বালাই নেই। মন্দির এখন তার নিজের সৌর্ন্দয্য এবং গাম্ভীর্য একেবারেই হারিয়ে ফেলছে। একসময় কোচবিহার থেকে যাওয়া শরণার্থীদের জন্য সেরা ঠিকানা ছিল এই “কোচবিহার কালীবাড়ি”। কিন্তু এখন আর প্রশাসনিক স্তর থেকে মন্দির নিয়ে তেমন কোনো গঠনশীল চিন্তাভাবনা নজরে পড়ে না।
“কোচবিহার কালীবাড়ি”র ঠিক পাশেই রয়েছে কোচবিহারের রাজপরিবারের একটি রাজমহল। স্থানীয়ভাবে যা “কোচবিহার রাজবাড়ি” নামেও খ্যাত। তবে রাজ আমলের এই মন্দির কিংবা মন্দির সংলগ্ন রাজভবনের সেই গৌরবময় পরিবেশ আজ আর নেই। আগের মতো মন্দিরচত্বরে সেই ভিড়ও আর চোখে পড়ে না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবটাই নিজের ছন্দ হারিয়েছে।

