আলিপুরদুয়ার, ২৬ জুলাই:
দীর্ঘদিন ধরেই বক্সা টাইগার রিজার্ভে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্রকে আরও সমৃদ্ধ করার উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা চলছে। সেই পরিকল্পনায় এবার গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির ইঙ্গিত দিল রাজ্য সরকার। রবিবার আলিপুরদুয়ারের প্রশাসনিক ভবন ডুয়ার্সকন্যায় অনুষ্ঠিত এক প্রশাসনিক বৈঠকের পর বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাঁও জানালেন, প্রথম পর্যায়ে বক্সা টাইগার রিজার্ভে একটি বাঘিনি আনা হবে। পরবর্তী সময়ে পর্যায়ক্রমে আরও বাঘ আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।
এদিন ডুয়ার্সকন্যায় অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বনমন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাঁও, রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামা, বন দফতর ও জেলা প্রশাসনের একাধিক শীর্ষ আধিকারিক। বৈঠকে জেলার বন ও পরিবেশ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়, বন সংরক্ষণ, বন্যপ্রাণ রক্ষা এবং সবুজায়ন কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বনমন্ত্রী বলেন, বক্সা টাইগার রিজার্ভে বাঘ পুনর্বাসন প্রকল্পকে ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত করা হবে। প্রথম পর্যায়ে একটি বাঘিনি আনা হবে এবং তার পরবর্তী পর্যায়ে পরিস্থিতি ও পরিবেশগত মূল্যায়নের ভিত্তিতে আরও বাঘ আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তাঁর মতে, এই উদ্যোগ সফল হলে বক্সার বনাঞ্চলে বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং বনাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
বনমন্ত্রী আরও জানান, বাঘ স্থানান্তরের আগে বনাঞ্চলের বাস্তুতন্ত্র, পর্যাপ্ত শিকার প্রাণীর উপস্থিতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বাঘের জন্য উপযুক্ত আবাসস্থল নিশ্চিত করার বিষয়গুলিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ এবং বৈজ্ঞানিক মূল্যায়নের ভিত্তিতেই এই প্রকল্প এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে বলে তিনি জানান।
এদিন বৈঠকে বন সংরক্ষণের পাশাপাশি বৃহৎ পরিসরে সবুজায়ন কর্মসূচির বিষয়েও আলোচনা হয়। বনমন্ত্রী জানান, আলিপুরদুয়ার জেলাজুড়ে মোট ৩০ লক্ষ গাছ লাগানোর পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই গ্রহণ করা হয়েছে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, বনাঞ্চল সম্প্রসারণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, সরকারি বিভিন্ন দফতর, স্থানীয় প্রশাসন, বন দফতর এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হবে। রাস্তার ধারে, সরকারি জমিতে, বনাঞ্চলের সংলগ্ন এলাকায় এবং উপযুক্ত অন্যান্য স্থানে ব্যাপকভাবে গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে লাগানো গাছের পরিচর্যা এবং সংরক্ষণের বিষয়েও বিশেষ নজর দেওয়া হবে।
প্রশাসনিক বৈঠকে জেলার বন ও বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ, বনভূমি রক্ষা, মানব-প্রাণী সংঘাত কমানো, বনাঞ্চলের উন্নয়ন এবং পরিবেশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত একাধিক বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
বক্সা টাইগার রিজার্ভে বাঘ পুনর্বাসনের এই পরিকল্পনা এবং জেলাজুড়ে ৩০ লক্ষ গাছ লাগানোর উদ্যোগকে পরিবেশ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন এই প্রকল্পগুলির বাস্তবায়ন কীভাবে এগোয়, সেদিকেই নজর রয়েছে বন দফতর এবং পরিবেশপ্রেমীদের।

