আলিপুরদুয়ার, ১৪ জুলাই:
লোকো পাইলটদের সতর্কতা ও সময়োচিত পদক্ষেপে ফের রক্ষা পেল একটি বুনো হাতির প্রাণ। আলিপুরদুয়ার-শিলিগুড়ি রেলপথে মঙ্গলবার ভোররাতে রেললাইনের কাছাকাছি চলে আসা একটি বুনো হাতিকে দেখে দ্রুত ইঞ্জিনের গতি কমিয়ে দেন চালক। তাঁদের তৎপরতায় এড়ানো সম্ভব হয় সম্ভাব্য দুর্ঘটনা। রেলকর্মীদের এই মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন বনপ্রেমী ও পরিবেশকর্মীরা।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার ভোররাত প্রায় ৩টা ৪০ মিনিট নাগাদ আলিপুরদুয়ার-শিলিগুড়ি রেলপথের ক্যারন ও বানারহাট স্টেশনের মাঝামাঝি ৮৪/৮ কিলোমিটার এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। ওই সময় একটি আপ লাইট ইঞ্জিন (শুধুমাত্র ইঞ্জিন) রেলপথ ধরে চলাচল করছিল।
ইঞ্জিনের চালকের আসনে ছিলেন লোকো পাইলট রাজীব রায় এবং তাঁর সঙ্গে ছিলেন সহকারী লোকো পাইলট ডি. জে. সরকার। তাঁরা রেললাইনের পাশ দিয়ে একটি বুনো হাতিকে চলাচল করতে দেখতে পান। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তাঁরা কোনও ঝুঁকি না নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে ইঞ্জিনের গতি কমিয়ে দেন।
এরপর হাতিটির নিরাপদে জঙ্গলে ফিরে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করেন চালক ও সহকারী চালক। প্রায় ১৫ মিনিট ঘটনাস্থলে ইঞ্জিনটি দাঁড় করিয়ে রাখা হয়। কিছুক্ষণ পর হাতিটি ধীরে ধীরে রেললাইন সংলগ্ন এলাকা ছেড়ে জঙ্গলের ভিতরে চলে যায়। হাতিটি সম্পূর্ণ নিরাপদে চলে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ফের ইঞ্জিনটি যাত্রা শুরু করে।
উল্লেখ্য, আলিপুরদুয়ার ও ডুয়ার্সের বিভিন্ন রেলপথ হাতির করিডরের মধ্যে পড়ে। এই এলাকায় প্রায়ই হাতির চলাচল দেখা যায়। বিশেষ করে রাতের সময় এবং ভোরের দিকে রেললাইনের কাছাকাছি হাতির উপস্থিতির সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই এই রুটে চলাচলকারী ট্রেনের চালকদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়।
বনদপ্তর ও রেল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই হাতি ও রেল দুর্ঘটনা কমাতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ট্রেনের গতি নিয়ন্ত্রণ, হাতির চলাচলের এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি এবং রেলকর্মীদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ।
রেল কর্মীদের মতে, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে চালকদের সচেতনতা ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতীতেও এই রেলপথে বহুবার লোকো পাইলটদের সতর্কতার কারণে হাতির প্রাণ রক্ষা পেয়েছে এবং বড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
এবারও রাজীব রায় ও ডি. জে. সরকারের সময়োচিত সিদ্ধান্তের ফলে একটি বুনো হাতির জীবন রক্ষা পেল। তাঁদের এই উদ্যোগ রেল ও বনপ্রেমী মহলে প্রশংসিত হয়েছে।

