১২/০৬/২০২৫:
জাগোরে হুদুম আজিকার আতি।
গারোস্থয় করে পূজা দিয়া চাইলোন বাতি।।
হুদুম দেও হুদুম দেও,
হামাক ফটিক পানি দেও।
হামার দ্যাশত নাই পানি,
কৃষক মানষির টানাটানি।।
হুদুম দ্যাও (দেবতা)রাজবংশীদের মধ্যেত বৃষ্টির দেবতা বুলি মানা হয় ।হুদুম দেও পুজা পুরাপুরি প্রকৃতি পুজারী রাজবংশী বয়স্ক মহিলাগুলা করে।এটি কয়খান প্রতীকি ফটোক দিনু।এই সংস্কৃতির মধ্যে দিয়া রাজবংশী সমাজোত নারীগুলার মাতৃতান্ত্রিকতার অধিকার,প্রজননের পাশাপাশি উমার কৃষিবিদ্যা,কৃষি আবিষ্কারোত উমার ভূমিকা আরও কৃষিজ ফসল উৎপাদনোত উমরা যে ঘাটা দেখাইয়া তা এই আদিম কৃষ্টির মধ্যেত দেখা যায় ।
বৈশাখ -জৈষ্ঠ মাসোত খুব খড়া হৈলে আকাশ থাকি জল বা বৃষ্টি আনার জৈন্য এই অনুষ্ঠানটা মূলত মহিলাগুলা করে।আরো সাথোত বিয়াও দেওয়া হয় ব্যাঙের।কারন ব্যাঙের সাথোত জলের সম্পর্ক আছে।হামরালা এলাও বিশ্বাস করি ব্যাঙ কান্দিলে ঝড়ি আইসে।তায় এই পূজার পাশাপাশি ব্যাঙের বিয়াও খড়া দূর করিবার একটা বিশ্বাস এবং কৃষিবৈজ্ঞানীক ধারণা ।আসামত এই ব্যাঙের বিয়াক কয় “ভেকুলি বিয়া”।
বৈশাখ জ্যাঠ মাসোত(মে-জুলাই) খুব খড়া হৈলে গ্রামের আবাদি জমিত কোনও মঙ্গলবার বা শনিবার এই পুজা করা হয়। হুদুম দ্যাও এর নিশান হিসাবে কলাগাছ গাড়িয়া গোল করি বসিয়া বয়স্ক একজন অভিজ্ঞতা সম্পন্ন মহিলা পূজা দেয় আরো মন্ত্র কয়।মন্ত্রগুলা রাজবংশী ভাষাত কয় আরও সগায় মিলি গান কয়।পূজাত কলার ঢোঙ্গলোত দুধ,দই,চিনি,কলা নৈবদ্য দেয়।পুজা শ্যাষ করি সগায় হাটু গাড়িয়া ভক্তি দেয়।এই পুজাত পুরুষ মানষির প্রবেশ বা দেখা নিষিদ্ধ। আরও কিছু বিধিনিষেধ আছে এই পুজাত।রাজবংশীরা এটা বিশ্বাস করে যে হুদুম দ্যাও/দেবতা এঙকরিয়াই সন্তুষ্ট হয় এবং তারপরে বৃষ্টি আসিয়া খড়া দূর করিয়া পৃথিবীক উর্বর করে তোলে।কৃষি কেন্দ্রিক এই বৃষ্টি আনা নিয়ম অনুষ্ঠান এলাও রাজবংশী সমাজের মধ্যেত চল আছে এবং রাজবংশী সমাজোত নারী গুলার স্থান বা জায়গা অনেক উপরা আরও সম্মানের।
সমাজ আধুনিক হলেও রাজবংশীরা বিশেষ করে মহিলারা তাদের আদিম উপাসনালয়ে এখনও বিশ্বাসী।নারীরা শুধুমাত্র চার দেওয়ালেই সীমাবদ্ধ থাকবে,সমাজ গঠনে তাদের ভূমিকা থাকবে না,এটা হতে পারে না।সমাজ আরও সংস্কৃতিত তাদের অবদান অনস্বীকার্য। রাজপরিবারে সদস্য কুমার মৃদুল নারায়ন সমস্ত বিষয় তার লেখনীর মাধ্যমে তুলে ধরেছেন।

