জলপাইগুড়ি, ১২ জুন:
তিস্তা নদীর চর থেকে একটি পূর্ণবয়স্ক হাতির মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জলপাইগুড়ি জেলার ক্রান্তি ব্লকের চাপাডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসুসুবা অঞ্চলে। শুক্রবার সকাল থেকে মৃত হাতিটির দেহ উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করে বনদপ্তর। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় কৌতূহলী মানুষের ভিড় জমে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে তিস্তা নদীর চরে একটি বিশাল আকৃতির হাতির মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেন এলাকার বাসিন্দারা। বিষয়টি নজরে আসতেই বনদপ্তরকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে জলপাইগুড়ি ডিভিশন এবং বৈকুণ্ঠপুর ডিভিশনের বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন।
শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হয় মৃত হাতিটির দেহ উদ্ধারের কাজ। নদীর চর এবং কাদাময় পরিবেশের কারণে উদ্ধারকাজে বেশ বেগ পেতে হয় বনকর্মীদের। দীর্ঘক্ষণ চেষ্টার পর ক্রেনের সাহায্যে তিস্তা নদীর চর থেকে হাতিটির দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
বনদপ্তরের প্রাথমিক অনুমান, মৃত হাতিটি স্থানীয় এলাকার নয়। সম্ভবত পাহাড়ি অঞ্চলের কোথাও দুর্ঘটনার কবলে পড়ে হাতিটির মৃত্যু হয়েছে। এরপর তিস্তা নদীর প্রবল স্রোতে ভেসে মৃতদেহটি সমতলের দিকে চলে আসে। বন আধিকারিকদের মতে, হাতিটির মৃতদেহ প্রায় ১০ দিন বা তারও বেশি সময় ধরে জলে ভাসমান অবস্থায় ছিল বলে মনে করা হচ্ছে।
উদ্ধার হওয়া হাতিটির দেহে পচন ধরেছে বলে জানা গিয়েছে। তবে মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। হাতিটির দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন বনদপ্তরের আধিকারিকরা।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বনদপ্তরের কর্মী ও আধিকারিকরা। উদ্ধারকাজ চলাকালীন এলাকাবাসীরাও সেখানে ভিড় জমান। বিশাল আকৃতির হাতির মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘিরে এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
বাইট: উত্তম সরকার (এলিফ্যান্ট স্কোয়াড রেঞ্জার, বেলাকোপা)
বাইট: চন্দন কুমার রায় (এলাকাবাসী)

