বাগডোগরা, ১০ জুলাই:
শুক্রবার সকালে বাগডোগরার বিহার মোড় এলাকায় এক মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন এক পথচারী। ইসলামপুর থেকে শিলিগুড়িগামী একটি সরকারি বাস আচমকা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ওই পথচারীকে ধাক্কা মেরে উড়ালপুলের একটি পিলারে সজোরে ধাক্কা মারে। দুর্ঘটনার অভিঘাতে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই ব্যক্তির। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। দুর্ঘটনার পর বাসের চালক ও কন্ডাক্টর গাড়ি ফেলে পালিয়ে গিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিদিনের মতো ইসলামপুর থেকে শিলিগুড়ির উদ্দেশে যাত্রী নিয়ে রওনা দিয়েছিল সরকারি বাসটি। বাসটি বাগডোগরার বিহার মোড়ের কাছে পৌঁছতেই আচমকা বিকট শব্দ হতে শুরু করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বাসের সামনের অংশ থেকে অস্বাভাবিক শব্দ বের হচ্ছিল এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই চালক বাসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং কেউ কেউ চিৎকার শুরু করেন।
নিয়ন্ত্রণ হারানো বাসটি প্রথমে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়া এক পথচারীকে সজোরে ধাক্কা মারে। এরপর গতির বেগে সোজা উড়ালপুলের একটি কংক্রিটের পিলারে গিয়ে আছড়ে পড়ে। সংঘর্ষের তীব্রতায় বাসের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। পথচারী গুরুতরভাবে আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। বাসের যাত্রীদের নিরাপদে বাইরে বের করে আনা হয়। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, যাত্রীদের মধ্যে কেউ গুরুতর আহত না হলেও কয়েকজন সামান্য চোট পেয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। তবে আহতের সঠিক সংখ্যা এবং তাঁদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে এখনও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
এদিকে দুর্ঘটনার পরই বাসের চালক ও কন্ডাক্টর ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যান বলে অভিযোগ। তাঁদের খোঁজে ইতিমধ্যেই তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। ঘটনার পর এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনার সৃষ্টি হলেও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
খবর পেয়ে বাগডোগরা থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠায়। পাশাপাশি দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাসটিকেও থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পুলিশ বাসটির যান্ত্রিক অবস্থা খতিয়ে দেখছে এবং দুর্ঘটনার সময় উপস্থিত যাত্রী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ করছে।
প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে, বাসে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তবে অতিরিক্ত গতি, ব্রেক বিকল হওয়া, নাকি অন্য কোনও প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিলেন, তা এখনও নিশ্চিত নয়। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বিস্তারিত তদন্ত শুরু করেছে বাগডোগরা থানার পুলিশ। একই সঙ্গে পলাতক চালক ও কন্ডাক্টরকে চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
এই ঘটনায় ফের সরকারি বাসের রক্ষণাবেক্ষণ, নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষা এবং যাত্রী ও পথচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, নিয়মিতভাবে যানবাহনের যান্ত্রিক পরীক্ষা এবং ট্রাফিক নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হলে এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।

