তুফানগঞ্জ , ৮জুলাই
রাজ্যে পালাবদলের জের: তুফানগঞ্জে শাসক-বিরোধী যৌথ সমর্থনে দুই পঞ্চায়েতে বিজেপির বোর্ড গঠন
রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের জেরে তুফানগঞ্জ বিধানসভার নাককাটি গাছ ও বালাভূত গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধানরা ইস্তফা দেওয়ায় প্রশাসনিক কাজে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল, বুধবার তার অবসান ঘটল। শাসক ও বিরোধী পঞ্চায়েত সদস্যদের যৌথ সমর্থনে এই দুই পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠন করল বিজেপি। এদিন নতুন দুই গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয়ে পৌঁছে নবনিযুক্ত প্রধানদের সংবর্ধনা জানান রাজ্যের নারী ও শিশু কল্যাণ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মালতী রাভা রায় ও কোচবিহার জেলা বিজেপি সভাপতি অভিজিৎ বর্মন।
নাককাটি গাছ গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল প্রধান কোহিনুর বিবির ইস্তফার পর, বুধবার নতুন করে নির্বাচন হয়। সেখানে তৃণমূল ও বিজেপি মিলিয়ে মোট ২৬ জন সদস্যের বিপুল সমর্থনে নতুন প্রধান নির্বাচিত হন বিজেপির লিপিকা সরকার। অন্যদিকে, ১৬টি আসনের মধ্যে ১৫টি তৃণমূলের দখলে থাকা বালাভূত গ্রাম পঞ্চায়েতেও প্রধান ও উপপ্রধানের পদত্যাগের পর সমীকরণ বদলে যায়। সেখানেও তৃণমূল সদস্যদের সমর্থনে প্রধান নির্বাচিত হয়েছেন বিজেপির নজরুল ইসলাম। দায়িত্ব পেয়ে দুই প্রধানই জানিয়েছেন, বিগত দিনের বঞ্চনা ও পক্ষপাতিত্ব সরিয়ে দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে প্রকৃত উন্নয়ন এবং সরকারি পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই হবে তাদের মূল লক্ষ্য।
এই পঞ্চায়েত হাতবদল প্রসঙ্গে স্থানীয় বিজেপি ১নং মন্ডল সভাপতি যুগল কিশোর দাস বলেন, বাংলার মানুষ পরিবর্তন চেয়েছে বলেই সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক প্রথা মেনে এই বোর্ড গঠন সম্ভব হয়েছে। মোদীজির ‘সবকা সাথ সবকা বিকাশ’ নীতি মেনেই আগামী দিনে কাজ করা হবে। তারা অভিযোগ করেন, বিগত সরকার বিশেষ করে বালাভূতের মতো সংখ্যালঘু এলাকাগুলোতে কোনও উন্নয়ন না করে শুধুমাত্র সন্ত্রাস চালিয়েছে এবং বিজেপির প্রতি মানুষের মনে ভুল ধারণা তৈরি করে রেখেছিল। আগামী দিনে গ্রাম পঞ্চায়েত অফিস থেকেই স্বাস্থ্য, পানীয় জল ও রাস্তাঘাটের সার্বিক উন্নয়ন করার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি, তৃণমূলের দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের নেওয়া কাটমানির টাকা অবিলম্বে সাধারণ মানুষকে ফিরিয়ে দেওয়ারও কড়া দাবি জানিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব।

