আলিপুরদুয়ার, ২৫ জুন:
কাজের প্রলোভন দেখিয়ে এক যুবককে জম্মু ও কাশ্মীরে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করার চেষ্টা এবং শারীরিক নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে আলিপুরদুয়ারের কালচিনি ব্লকে। ঘটনায় গারোপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে আক্রান্ত যুবকের পরিবার। ইতিমধ্যেই হাসিমারা ফাঁড়িতে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে এবং পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, কালচিনি ব্লকের বন্ধ মধু চা বাগান এলাকার বাসিন্দা বিশাল ওঁরাওকে গত ৮ জুন কাজের ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জম্মু ও কাশ্মীরে নিয়ে যান সন্দীপ গুরুং নামে এক ব্যক্তি। পরিবারের দাবি, বিশালকে কোনও কাজের সুযোগ দেওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে নিয়ে যাওয়া হলেও প্রকৃতপক্ষে তাঁকে নেশাজাতীয় কিছু খাইয়ে অপহরণ করা হয় এবং পরে কাশ্মীরে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, সেখানে পৌঁছানোর পর বিশাল বুঝতে পারেন যে তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এরপর সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করলে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে ধরে ফেলে এবং নির্মমভাবে মারধর করে। অভিযোগ, চাবুক ও কাঁটাতার দিয়ে বেধড়ক প্রহার করা হয় তাঁকে। দীর্ঘ সময় ধরে শারীরিক নির্যাতনের ফলে তাঁর শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর আঘাত লাগে।
অভিযুক্তদের হাত থেকে রক্ষা পেতে প্রাণপণ চেষ্টা চালান বিশাল। তিনি জানান, কোনওভাবে সেখান থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর দু’দিন জঙ্গলের মধ্যে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। খাবার ও নিরাপত্তাহীন অবস্থায় সেই সময় কাটাতে হয় তাঁকে। পরে স্থানীয় কিছু মানুষের সহায়তায় তিনি একটি রেলস্টেশনে পৌঁছতে সক্ষম হন। সেখান থেকে ট্রেনে চেপে বহু কষ্টে নিজের বাড়িতে ফিরে আসেন।
বিশাল ওঁরাও বলেন, “আমি পালিয়ে যাওয়ার পর দু’দিন জঙ্গলের মধ্যে পড়ে ছিলাম। কী করব বুঝতে পারছিলাম না। পরে কয়েকজন স্থানীয় মানুষ সাহায্য করেন। তাঁদের সহযোগিতায় স্টেশনে পৌঁছে ট্রেনে বাড়ি ফিরতে সক্ষম হই।”
গত ২০ জুন তিনি বাড়িতে ফেরেন। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাঁকে লতাবাড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসকরা তাঁর শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখতে পান বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
বিশালের মা বাসন্তী ওঁরাও বলেন, “আমার ছেলের শরীরজুড়ে মারধরের দাগ রয়েছে। সে ঠিকমতো হাঁটতেও পারছে না। আমরা চাই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে আর কোনও পরিবারের সঙ্গে এমন ঘটনা না ঘটে।”
ঘটনাটি সামনে আসতেই এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কাজের লোভ দেখিয়ে যুবকদের ভিনরাজ্যে নিয়ে গিয়ে প্রতারণা বা মানবপাচারের মতো অপরাধের আশঙ্কা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। যদিও অভিযোগের সত্যতা এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ জানতে পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে।
হাসিমারা ফাঁড়ির পুলিশ জানিয়েছে, পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগে নাম থাকা ব্যক্তির ভূমিকা, যুবককে কীভাবে কাশ্মীরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং সেখানে তাঁর সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছিল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রমাণ সংগ্রহের কাজও শুরু হয়েছে।
এই ঘটনায় এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়।

