আলিপুরদুয়ার, ২১ জুন:
আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে এক অভিনব ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগের সাক্ষী থাকল ডুয়ার্সের প্রকৃতি-কন্যা জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান। রবিবার সকালে জাতীয় উদ্যানের মনোরম পরিবেশে এমন এক দৃশ্য ধরা পড়ল, যা শুধু উপস্থিতদেরই নয়, প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণপ্রেমীদেরও মুগ্ধ করেছে। কুনকি হাতির পিঠে বসে যোগব্যায়াম করতে দেখা গেল মাহুতদের। একইসঙ্গে বনকর্মী ও বনাধিকারিকরাও নদীর তীরে সম্মিলিতভাবে যোগাভ্যাসে অংশ নেন।
বিশ্ব যোগ দিবসকে স্মরণীয় করে তুলতে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে এই বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ভোরের আলো ফুটতেই হলং নদীর তীরে জমায়েত হন বনকর্মী, আধিকারিক এবং মাহুতরা। কিছুক্ষণ পর নদীর জলে এসে উপস্থিত হয় ছয়টি প্রশিক্ষিত কুনকি হাতি। এরপর শুরু হয় এক অভিনব যোগাভ্যাসের পর্ব।
প্রত্যেক মাহুত নিজ নিজ কুনকি হাতির পিঠে বসে বিভিন্ন যোগাসন ও প্রাণায়ামের অনুশীলন করেন। অন্যদিকে নদীর পাড়ে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে যোগব্যায়াম করেন বনদপ্তরের কর্মী ও আধিকারিকরা। সবুজ অরণ্য, প্রবাহমান নদী এবং বিশালাকৃতির হাতিদের উপস্থিতিতে গোটা পরিবেশ যেন এক অন্য মাত্রা পায়।
জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল বার্তা হলো শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার পাশাপাশি প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের নিবিড় সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করা। সেই ভাবনা থেকেই এই অভিনব কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। মানুষের পাশাপাশি বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ ও পরিবেশ রক্ষার গুরুত্বও এই কর্মসূচির মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।
বনকর্তাদের মতে, কুনকি হাতিগুলি দীর্ঘদিন ধরে বনদপ্তরের বিভিন্ন কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তাদের সঙ্গে মাহুতদের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। বিশ্ব যোগ দিবসে সেই সম্পর্কের এক অনন্য প্রকাশ দেখা গেল এই আয়োজনে। মানুষের সঙ্গে প্রাণীর সহাবস্থান এবং পারস্পরিক নির্ভরতার বার্তাও এই কর্মসূচির মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে।
উদ্যান কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত ছবি ও ভিডিও ইতিমধ্যেই ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। কুনকি হাতির পিঠে বসে মাহুতদের যোগাভ্যাসের দৃশ্য অনেকের কাছেই বিরল ও ব্যতিক্রমী বলে মনে হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এই উদ্যোগ প্রশংসা কুড়িয়েছে।
বিশ্ব যোগ দিবসের সকালে জলদাপাড়ার অরণ্যভূমিতে মানুষ ও হাতির এই মিলিত অংশগ্রহণ শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নয়, বরং প্রকৃতি, প্রাণী এবং মানুষের মধ্যে সমন্বয় ও সহাবস্থানের এক সুন্দর বার্তা বহন করেছে। আন্তর্জাতিক যোগ দিবসকে ঘিরে জলদাপাড়ার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিঃসন্দেহে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

