শিলিগুড়ি, ১৭ সেপ্টেম্বর
শহরজুড়ে লাগাতার যানজট আর পার্কিংয়ের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষের জনজীবন এবার কি তবে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে চলেছে? শিলিগুড়ির বুকে এক বিরাট পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়াম সংলগ্ন ঐতিহাসিক মেলা ময়দানকে পাকাপাকিভাবে পার্কিং লটে রূপান্তর করার এক মেগা উদ্যোগ নিল প্রশাসন। বিধান মার্কেট ও তার আশপাশের এলাকায় বছরের পর বছর ধরে চলে আসা তীব্র যানজট সমস্যাকে গোড়া থেকে নির্মূল করতেই এই বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ পার্কিং প্রকল্পের শিলান্যাস করলেন শিলিগুড়ির বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী ডঃ শংকর ঘোষ।
এদিন প্রদীপ প্রজ্বলন, ফিতা কাটা এবং আনুষ্ঠানিকভাবে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শিলিগুড়ি পুরনিগমের কমিশনার বীর বিক্রম রাই, ডিসিপি ট্রাফিক শামসুদ্দিন আহমেদ, এসিপি ট্রাফিক সুবীর দত্ত সহ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকরা। শিলান্যাস পর্বের পর ডঃ শংকর ঘোষ স্পষ্ট জানান, বিধান মার্কেটের পার্কিং সংকট বহু পুরনো। অতীতে বিভিন্ন সময়ে সমাধানের প্রতিশ্রুতি মিললেও কোনো স্থায়ী সুরাহা হয়নি। এবার সেই দীর্ঘস্থায়ী যন্ত্রণার অবসান ঘটাতেই এই বিকল্প পার্কিংয়ের বন্দোবস্ত করা হচ্ছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়াম সংলগ্ন এলাকায় ইতিমধ্যেই পার্কিং পরিষেবা আংশিক চালু হলেও পরিকাঠামোর কিছু কাজ বাকি রয়েছে। পুজো আসতেই যাতে সাধারণ মানুষ বা ক্রেতাদের কোনো সমস্যায় পড়তে না হয়, তার জন্য আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে এই প্রকল্পের সমস্ত কাজ সম্পন্ন করার কড়া লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, যে মাঠে এতদিন বিভিন্ন বড় বড় মেলা ও উৎসবের জমজমাট আসর বসত, আগামী দিনে সেই জায়গাটি মূলত গাড়ির চাকার গতি ও পার্কিংয়ের জন্যই বরাদ্দ থাকতে চলেছে।
তবে শুধু পার্কিং লট তৈরিই নয়, শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আরও বেশ কিছু বড় রদবদলের কথা ঘোষণা করেছেন মন্ত্রী। শহরের ভেতরে বিশাল আকারের ভলভো বাস চলাচলের জট কাটাতেও বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শহরের বাইরে নির্দিষ্ট স্থানে এই বাসগুলোর স্থায়ী বন্দোবস্ত করতে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার টেন্ডার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়ে ওয়ার্ক অর্ডারও দিয়ে দেওয়া হয়েছে। চলতি মাসের আগামী ২৮ তারিখ সেই নতুন প্রকল্পের উদ্বোধন হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি ফুলবাড়িতে প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে টোল গেটসহ একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
এদিকে, স্টেডিয়ামের মাঠে মেলা বন্ধ হওয়ার ফলে আগামী দিনে শহরের অন্য মেলাগুলি কোথায় বসবে, তা নিয়ে নতুন জল্পনা তৈরি হয়েছে। এই প্রসঙ্গে শংকর ঘোষ ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, পুজোর পর মেলার জন্য আলাদা জায়গা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হবে। শহরের প্রাণকেন্দ্রে আর মেলা করার অনুমতি দেওয়া হবে না, বরং পর্যাপ্ত পার্কিংয়ের পরিকাঠামো রয়েছে এমন এলাকাগুলিকেই বেছে নেওয়া হবে। এমনকি ‘বিশ্ব বাংলা শিল্পী হাট’-কেও ভবিষ্যতে মেলা বা বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য ব্যবহারের চিন্তাভাবনা চলছে বলে জানান তিনি। তবে দুর্গাপুজোর ক্ষেত্রে এই নিয়মের ব্যতিক্রম থাকবে। একই সঙ্গে ফুটপাথ ও রাস্তা দখল করে চলা অবৈধ ব্যবসা কিংবা বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধেও কড়া বার্তা দিয়েছেন মন্ত্রী। সব মিলিয়ে, শিলিগুড়ির এই মেগা রূপান্তর আগামী দিনে শহরের ট্রাফিক মানচিত্রে কতটা স্বস্তি আনে, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় শহরবাসী।

