আলিপুরদুয়ার, ১৬ জুন:
রাজ্য সরকারের উদ্যোগে শুরু হওয়া জনকল্যাণ শিবিরকে ঘিরে সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে আলিপুরদুয়ার জেলার কালচিনি ব্লকেও। গতকাল থেকে শুরু হওয়া এই শিবিরে প্রতিদিনই ভিড় জমাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। সরকারি প্রকল্পের সুবিধা গ্রহণ, বিভিন্ন পরিষেবার জন্য আবেদন এবং সমস্যার সমাধানের আশায় কালচিনি ব্লক অফিসে আয়োজিত জনকল্যাণ শিবিরে দূরদূরান্ত থেকে সাধারণ মানুষ উপস্থিত হচ্ছেন।
শিবিরের দ্বিতীয় দিনেও কালচিনি ব্লকের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কয়েক হাজার মানুষের সমাগম হয়। সকাল থেকেই ব্লক অফিস চত্বরে দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ে। বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প সংক্রান্ত তথ্য জানতে, আবেদনপত্র জমা দিতে এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করাতে উপভোক্তাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
এই ব্যস্ততার মধ্যেই নজর কেড়েছেন কালচিনি ব্লকের বিডিও মিঠুন মজুমদার। প্রশাসনিক দায়িত্বের গণ্ডি ছাড়িয়ে তাঁকে সরাসরি শিবিরে উপস্থিত থেকে সাধারণ মানুষকে সহযোগিতা করতে দেখা যায়। কখনও তিনি শিবিরে আসা মানুষের সমস্যার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনছেন, কখনও আবার বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের আবেদনপত্র পূরণে সাহায্য করছেন। অনেক ক্ষেত্রে উপভোক্তাদের প্রয়োজনীয় নথিপত্র সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করেও সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করতে দেখা যায় তাঁকে।
শিবিরে আসা বহু মানুষ জানান, প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিককে এতটা সক্রিয়ভাবে তাঁদের পাশে দাঁড়াতে দেখে তাঁরা উৎসাহিত হয়েছেন। অনেকেই বলেন, সাধারণত অফিসের নির্দিষ্ট ঘরে বসে কাজ করার পরিবর্তে বিডিও নিজে মাঠে নেমে মানুষের সমস্যার কথা শুনছেন এবং সমাধানের চেষ্টা করছেন, যা তাঁদের কাছে ইতিবাচক অভিজ্ঞতা।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জনকল্যাণ শিবিরের মূল লক্ষ্যই হল সরকারি পরিষেবাকে আরও সহজভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং উপভোক্তাদের সমস্যার দ্রুত সমাধান করা। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই বিভিন্ন দফতরের আধিকারিক ও কর্মীরা একযোগে কাজ করছেন।
শিবিরে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক সুরক্ষা, কৃষি, আবাসন, ভাতা, পরিচয়পত্র সংক্রান্ত পরিষেবাসহ একাধিক সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের আগ্রহও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
এদিন কালচিনি বিডিও মিঠুন মজুমদারের সক্রিয় ভূমিকা শিবিরে উপস্থিত উপভোক্তাদের নজর কেড়েছে। প্রশাসনের এই জনমুখী উদ্যোগ এবং আধিকারিকদের সরাসরি অংশগ্রহণের ফলে জনকল্যাণ শিবির সাধারণ মানুষের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন অনেকেই।
আগামী দিনগুলিতেও এই শিবির চলবে এবং আরও বেশি সংখ্যক মানুষ যাতে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পান, সেই লক্ষ্যেই প্রশাসন কাজ করে চলেছে।

