জলপাইগুড়ি, ১৪ ফেব্রুয়ারী :
শিশুদের বকেয়া ভ্যাকসিন প্রদান করতে ট্রাক্টরের ট্রলিতে চেপে বোয়ালমারী প্রত্যন্ত তিস্তা নদীর চরের পাড়ি দিলেন ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রীতম বসু সহ তার অন্যান্য স্বাস্থ্য কর্মীরা। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের বোয়ালমারী নন্দনপুর অঞ্চলের তিস্তা বাহির চড়ে প্রায় দুই হাজার মানুষ বসবাস করেন। যাদের জীবন জীবিকা চাষবাস এবং পশু প্রতিপালন করা। তিস্তার প্রবল বন্যায় কখনো কখনো নষ্ট হয়ে যায় তাদের আবাদি ফসলসহ বসতবাড়ি। তবুও তারা যুগ যুগ ধরে নিরুপায় হয়ে বেঁচে থাকেন তিস্তা বাহির চড়ে। আপৎকালীন স্বাস্থ্য পরিষেবা নিতে তাদের হয়তো বোয়ালমারী নন্দনপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নতুবা জলপাইগুড়িতে আসতে হয়। আবার প্রসূতি মায়েদের এবং সদ্যোজাত শিশুদের নিয়ে তিস্তা নদী পেরিয়ে বোয়ালমারী প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আসতে অনেকটাই নাজেহাল হতে হয়। তাই ঐ সমস্ত এলাকার বাসিন্দাদের কথা মাথায় রেখে এমনই এক মানবিক উদ্যোগ নিলেন ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রীতম বসু। ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রীতম বসু বলেন তিস্তা নদীর চরে বসবাসকারী প্রসূতি মায়েদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিরীক্ষার পাশাপাশি সদ্যোজাত শিশুদের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। তিনি আরো বলেন এছাড়াও এলাকার বৃদ্ধ মানুষ অসুস্থ মানুষ এবং সাধারণ মানুষদের রক্ত পরীক্ষার পাশাপাশি তাদের স্ফুটাম সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন আগামী দিনেও এই পরিষেবা বহাল থাকবে। এলাকার নাগরিক তথা স্বাস্থ্যকরী প্রসেনজিৎ কুমার লালা বলেন এই প্রথম কোন ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ভ্যাকসিন দিতে ট্রলিতে করে তিস্তা নদী পাড়ি দিয়েছেন। তিনি আরো বলেন এলাকার প্রচুর মানুষ এদিনে এই স্বাস্থ্য শিবিরে স্বাস্থ্যপরিসেবা গ্রহণ করেন। তিনি আরো বলেন আগামী দিনেও এই পরিষেবা প্রদানের জন্য ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রীতম বোসের কাছে আবেদন রাখবো।

