তুফানগঞ্জ , ২৯ মে
তুফানগঞ্জের সীমান্ত এলাকায় স্বস্তির হাওয়া।
দীর্ঘ তিন বছর বন্ধ থাকার পর অবশেষে ফের চালু হতে চলেছে সীমান্ত এলাকা উন্নয়ন তহবিল (BADP)। এই খবরে নতুন করে আশার আলো দেখছেন তুফানগঞ্জের ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা। এ নিয়ে শুক্রবার তুফানগঞ্জ-১ ব্লকের দেওচড়াই গ্রাম পঞ্চায়েতের ঘোনাপাড়া বিএসএফ ক্যাম্পে সীমান্ত এলাকার উন্নয়ন সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত বৈঠকে তুফানগঞ্জের বিধায়ক, তুফানগঞ্জ মহকুমা শাসক, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিক, বিএসএফ কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
এই বৈঠকে গ্রামবাসীরা তাঁদের দীর্ঘদিনের বাস্তব সমস্যাগুলি প্রশাসনের সামনে তুলে ধরেন। উঠে আসে সীমান্তের কাঁটাতার লাগোয়া রাস্তাগুলির বেহাল দশা, তীব্র নদীভাঙন, পানীয় জলের সমস্যা, স্কুলের সীমানা প্রাচীর ও শৌচালয়ের অভাবের মতো একাধিক জ্বলন্ত বিষয়। বিএসএফ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও সীমান্ত এলাকায় টহলদারি রাস্তাগুলির দ্রুত উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা জানানো হয়। সব শুনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, প্রস্তাবিত কাজের তালিকায় সীমান্তবর্তী রাস্তা সংস্কার, সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ, নদীভাঙন রুখতে বোল্ডারের বাঁধ তৈরি, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও আইসিডিএস কেন্দ্রের ঘর নির্মাণ এবং স্কুলে পানীয় জল ও শৌচালয় তৈরির বিষয়গুলি রাখা হচ্ছে। মহকুমা শাসকের নির্দেশে পূর্ত, সেচ ও বিদ্যুৎ দপ্তরকে দ্রুত এলাকা পরিদর্শন করে আগামী দু’দিনের মধ্যে প্রকল্পগুলির প্ল্যান ও এস্টিমেট রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গোটা দেশে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীনে পরিচালিত বর্ডার এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামের আওতায় সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলিকে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়ে থাকে, যেখানে সীমান্ত থেকে ১০ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে উন্নয়নমূলক কাজ করা সম্ভব। কোচবিহার জেলার ১২টি ব্লকের মধ্যে তুফানগঞ্জ-১ সহ মোট ৮টি ব্লক এই প্রকল্পের আওতায় পড়ে। এর আগে ২০২০-’২১ অর্থবর্ষে ৩৮টি প্রকল্পের জন্য প্রায় ৯ কোটি ৮৭ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হলেও, ২০২২ সালের পর থেকে আর কোনও অর্থ আসেনি। এবার নতুন করে আগামী ১ জুন থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে সেই টাকা ছাড়ের প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বৈঠক শেষে বিধায়ক মালতি রাভা জানান, সীমান্ত এলাকা উন্নয়নের তহবিল খুব তাড়াতাড়ি মিলবে এবং কোন কাজগুলি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে আগে করা হবে, তার তালিকা প্রস্তুত করতেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল। প্রশাসনের আধিকারিকরা দ্রুত বাজেট প্রস্তুত করে জমা দিলে সেই টাকা নিয়ে এসে কাজ শুরু করা হবে।

