কোচবিহার, ২২ জুন:
রাজ্য বাজেটে কোচবিহার বিমানবন্দরের বিমান পরিষেবা পুনরায় চালু ও আধুনিকীকরণের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়ায় আশাবাদী হয়ে উঠেছে কোচবিহারের ব্যবসায়ী মহল। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা বিমান পরিষেবা ফের চালু করার পাশাপাশি বিমানবন্দরকে আরও উন্নত ও সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনার কথা বাজেটে উল্লেখ হওয়ায় খুশির আবহ তৈরি হয়েছে জেলার ব্যবসায়ী ও শিল্পমহলে।
মঙ্গলবার বাজেট ঘোষণার পর থেকেই কোচবিহারের বিভিন্ন ব্যবসায়িক সংগঠন ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তাঁদের মতে, কোচবিহার বিমানবন্দরে নিয়মিত বিমান পরিষেবা চালু হলে জেলার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আসবে। পাশাপাশি পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রেও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে।
ব্যবসায়ী মহলের প্রতিনিধিরা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই কোচবিহারবাসীর অন্যতম দাবি ছিল বিমানবন্দরকে কার্যকরভাবে চালু করা। উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ জেলা হওয়া সত্ত্বেও দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে বহু ক্ষেত্রেই পিছিয়ে পড়তে হয়েছে কোচবিহারকে। বিমান পরিষেবা চালু হলে কলকাতা-সহ দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ শহরের সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ হবে, যার ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে এবং নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনাও তৈরি হবে।
তাঁদের বক্তব্য, শুধু কোচবিহার নয়, পার্শ্ববর্তী আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়ি এবং অসমের কিছু অংশের মানুষের কাছেও এই বিমানবন্দর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ফলে গোটা উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে এটি একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের একাংশ বলেন, রাজ্য বাজেটে কোচবিহার বিমানবন্দর নিয়ে স্পষ্ট পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে, যা দীর্ঘদিনের প্রত্যাশাকে নতুন করে জাগিয়ে তুলেছে। তাঁদের মতে, এই ঘোষণা শুধু একটি উন্নয়নমূলক প্রকল্প নয়, বরং কোচবিহারের মানুষের আত্মমর্যাদা ও গর্বের সঙ্গেও জড়িত। তাই তাঁরা এই দিনটিকে জেলার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং গর্বের দিন হিসেবে দেখছেন।
ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা আরও জানান, বিমান পরিষেবা চালু হলে পর্যটন শিল্প বিশেষভাবে লাভবান হবে। ঐতিহ্যবাহী রাজবাড়ি, মদনমোহন মন্দির, রসিকবিল-সহ জেলার বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রের প্রতি দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আগ্রহ বাড়বে। এর ফলে হোটেল, পরিবহণ, রেস্তোরাঁ এবং অন্যান্য পরিষেবা ক্ষেত্রেও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
বাজেটে এই প্রকল্পকে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য ব্যবসায়ী মহল রাজ্য সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। তাঁদের আশা, ঘোষণার মধ্যে বিষয়টি সীমাবদ্ধ না থেকে দ্রুত বাস্তবায়নের পথে এগোবে এবং খুব শীঘ্রই কোচবিহার বিমানবন্দর থেকে নিয়মিত বিমান পরিষেবা চালু হবে।
বর্তমানে জেলার সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী মহল— সকলেই কোচবিহার বিমানবন্দরের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও বিমান পরিষেবা চালুর পরিকল্পনার দিকে আশাবাদী দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছেন। তাঁদের বিশ্বাস, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কোচবিহারের উন্নয়নের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে।

