তুফানগঞ্জ, ৫ জুন
দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর অবশেষে তুফানগঞ্জ থানায় আত্মসমর্পণ করলেন কোচবিহার জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক তথা তুফানগঞ্জ-১ পঞ্চায়েত সমিতির সহকারী সভাপতি রাজেশ তন্ত্রী। তাঁর আত্মসমর্পণকে কেন্দ্র করে শুক্রবার তুফানগঞ্জে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। থানা ও হাসপাতাল চত্বরে জড়ো হন বহু মানুষ। ধৃত নেতাকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় বিক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন এবং পরবর্তী বিভিন্ন নির্বাচনের সময় মারুগঞ্জ এলাকা-সহ তুফানগঞ্জ মহকুমার একাধিক জায়গায় সন্ত্রাস সৃষ্টির অভিযোগ রয়েছে রাজেশ তন্ত্রীর বিরুদ্ধে। এছাড়াও তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত চলছে বলে জানা গেছে। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে অভিযোগ। অবশেষে শুক্রবার তিনি তুফানগঞ্জ থানায় আত্মসমর্পণ করেন।
আত্মসমর্পণের পর পুলিশ তাঁকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে আদালতে পেশ করার উদ্দেশ্যে হাসপাতাল থেকে বের করে আনার সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ধৃত নেতাকে একঝলক দেখার জন্য ভিড় জমায় বহু মানুষ। সেই সময় ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়দের একাংশ। রাজেশ তন্ত্রীকে লক্ষ্য করে জুতো উঁচিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয় এবং বিভিন্ন স্লোগান তোলা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশকে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকার পর তাঁর আত্মসমর্পণ রাজনৈতিক মহলেও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। তবে অভিযোগগুলির বিষয়ে এখনও আদালতে চূড়ান্ত কোনও রায় হয়নি। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

