মাথাভাঙ্গা, ৩ জুলাই:
কোচবিহারের শীতলকুচি ব্লকের বড় কৈমারি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় আবাস যোজনার কাটমানির টাকা ফেরত দেওয়াকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চর্চা ও রাজনৈতিক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের মুখে দুই তৃণমূল নেতার পরিবারের পক্ষ থেকে একাধিক উপভোক্তার হাতে টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। তবে অনেক উপভোক্তার অভিযোগ, তাঁদের কাছ থেকে যে পরিমাণ টাকা নেওয়া হয়েছিল, তার সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দেওয়া হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বড় কৈমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অঞ্জলি বর্মনের স্বামী যামিনী বর্মনের বিরুদ্ধে আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে প্রায় ৬০ জন উপভোক্তার হাতে মোট প্রায় ৪ লক্ষ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
তবে এই টাকা ফেরত নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন একাধিক উপভোক্তা। তাঁদের দাবি, অনেকের কাছ থেকেই নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা নেওয়া হলেও ফেরত দেওয়া হয়েছে তার চেয়ে কম। উপভোক্তা পূর্ণেশ্বর বর্মনের অভিযোগ, তাঁর কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নেওয়া হলেও ফেরত দেওয়া হয়েছে মাত্র ৪ হাজার টাকা। ফলে এখনও এক হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন। যদিও এই অভিযোগ প্রসঙ্গে বড় কৈমারি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অঞ্জলি বর্মনের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, নলগ্রামের ১৬৩ নম্বর বুথেও একই ধরনের অভিযোগ সামনে এসেছে। সেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের বুথ সভাপতি মনিরুল মিয়ার বিরুদ্ধে আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নামে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ তোলেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। অভিযোগ, তাঁর পক্ষ থেকে প্রায় ৮০ জন উপভোক্তার মধ্যে মোট প্রায় ২ লক্ষ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু এই ক্ষেত্রেও সম্পূর্ণ টাকা ফেরত না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। উপভোক্তা বিপিন বর্মনের দাবি, তাঁর কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নেওয়া হলেও তিনি ফেরত পেয়েছেন মাত্র আড়াই হাজার টাকা। বাকি টাকা এখনও ফেরত পাননি বলে অভিযোগ তাঁর।
যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার না করে মনিরুল মিয়া দাবি করেছেন, “পার্টির নির্দেশে কিছু টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল। পরে উপভোক্তাদের চাপে সেই টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে।” তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরেও এলাকায় নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে শীতলকুচি ব্লকের বড় কৈমারি ও নলগ্রাম এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর তীব্র হয়েছে। বিরোধীরা বিষয়টি নিয়ে শাসকদলকে কটাক্ষ করতে শুরু করেছে, অন্যদিকে উপভোক্তাদের একাংশের দাবি, যাঁদের কাছ থেকে যে পরিমাণ টাকা নেওয়া হয়েছে, তাঁদের প্রত্যেককে সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দিতে হবে এবং গোটা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত।
বর্তমানে এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। আবাস যোজনার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রকল্পে কাটমানির অভিযোগ এবং পরে সেই টাকা ফেরত দেওয়ার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। উপভোক্তাদের দাবি, শুধু আংশিক নয়, প্রত্যেকের পাওনা সম্পূর্ণ অর্থ দ্রুত ফিরিয়ে দিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

