জলপাইগুড়ি, ৪ সেপ্টেম্বর :
বৈধ নথি ছাড়াই কি দিনের পর দিন চলছিল সরিষার তেলের মিল? প্রশাসনের নজরে আসতেই এবার বন্ধ করে দেওয়া হল সেই মিল। শুধু তেলের মিলই নয়, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রান্নাবান্নার অভিযোগে শহরের একটি অভিজাত রেস্তোরাঁও সাময়িকভাবে সিল করে দিল জেলা প্রশাসন। পরপর দুই জায়গায় প্রশাসনের অভিযানে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জলপাইগুড়ি শহরে।
জানা গিয়েছে, জলপাইগুড়ি শহরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদ্য প্রাক্তন পুর প্রতিনিধি তথা আইনজীবী সুব্রত পালের বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল সরিষার তেলের মিল। বুধবার বিষয়টি নজরে আসে জলপাইগুড়ি পুর প্রশাসকের। এরপর বৃহস্পতিবার রাতে বিশাল পুলিশ বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে ওই মিলে অভিযান চালায় জেলা প্রশাসন।
প্রশাসনের দাবি, মিলটির লাইসেন্স-সহ বিভিন্ন দফতরের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্রের মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছিল। এরপরও কীভাবে এতদিন ধরে মিলটি চলছিল, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। অভিযানের পর মিলের মালিকপক্ষের তরফে সুব্রত পালের মেয়ে শরণ্যা পালকে নোটিশ দেওয়া হয়। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মিলটি সিল করে দেওয়া হয়।
নোটিশ পাওয়ার পর শরণ্যা পাল জানান, গত ৩১ আগস্ট মিলের FSSAI লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়েছে। নতুন করে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, মিলটি তাঁর বাবার নামে নয়, তাঁদের বাড়িতে পার্টনারশিপে এই ব্যবসা চলে। বাবা বাড়িতে ফিরলে পুরো বিষয়টি তাঁকে জানানো হবে বলেও জানান শরণ্যা।
অন্যদিকে, একই দিনে শহরের উকিল পাড়ায় একটি অভিজাত রেস্তোরাঁয় অভিযান চালায় জেলা প্রশাসন। সেখানে রান্নাঘরের পরিবেশ খতিয়ে দেখতে গিয়ে প্রশাসনের নজরে আসে অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতি। সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শনের পর আপাতত এক মাসের জন্য রেস্তোরাঁটি সিল করে দেওয়া হয়েছে।
রেস্তোরাঁর ম্যানেজার সিলভানুষ লাকড়া অবশ্য জানান, কেন রেস্তোরাঁটি সিল করা হল, তা তাঁরা বুঝতে পারছেন না। পুজোর মুখে রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কর্মীদের পাশাপাশি ব্যবসার ক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে দাবি তাঁর।
প্রসঙ্গত, জলপাইগুড়ি শহরজুড়ে হোটেল, রেস্তোরাঁ, কেক ও মিষ্টির দোকান-সহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে লাগাতার অভিযান চালাচ্ছে প্রশাসন। ট্রেড লাইসেন্স, প্যাকেটজাত খাবারের মেয়াদ, খাবার তৈরির পরিবেশ, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা-সহ একাধিক বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনের এই ধারাবাহিক অভিযানে আগামী দিনে আরও বেশ কিছু ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ হয় কি না, এখন সেদিকেই নজর।

