জলপাইগুড়ি ৪ জুন
জলপাইগুড়ি জেলার মণ্ডলঘাট গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বজ্রপাতে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন আরও এক যুবক। বৃহস্পতিবার বিকেলে আচমকাই শুরু হওয়া বজ্র-বিদ্যুৎসহ বৃষ্টির মধ্যে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। তরতাজা এক যুবকের অকাল মৃত্যুতে গোটা এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার দিনের শেষভাগে আকাশে কালো মেঘ জমার পর হঠাৎই প্রবল বৃষ্টি ও বজ্রবিদ্যুৎ শুরু হয়। সেই সময় মণ্ডলঘাট গ্রাম পঞ্চায়েতের দাসপাড়া এলাকার বেশ কয়েকজন যুবক তিস্তা নদীর চর থেকে গবাদি পশু নিয়ে ফিরছিলেন। আচমকাই বিকট শব্দে বজ্রপাত হয় এবং তার আঘাতে দুই যুবক মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত অন্যান্য যুবকেরা দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসেন। পরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় দু’জনকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে রাজা দাস নামে এক যুবককে জলপাইগুড়ি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে আহত আরেক যুবককে দ্রুত জলপাইগুড়ির একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে তাঁর চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
রাজা দাসের আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য ছিলেন কি না, সেই বিষয়েও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। খবর ছড়িয়ে পড়তেই প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজনরা মৃতের বাড়িতে ভিড় জমান।
প্রসঙ্গত, বর্ষাকাল শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাতের ঘটনা বাড়তে দেখা যাচ্ছে। আবহাওয়াবিদরা খোলা মাঠ, নদীর চর কিংবা উঁচু স্থানে বজ্রবিদ্যুতের সময় অবস্থান না করার পরামর্শ দিয়ে আসছেন। তা সত্ত্বেও জীবিকা ও দৈনন্দিন কাজের প্রয়োজনে বহু মানুষ ঝুঁকি নিয়েই বাইরে থাকেন, যার ফলে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় দাসপাড়া এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। মৃতের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর দাবি তুলেছেন এলাকাবাসীরা।

