মাথাভাঙ্গা, ১০ জুন:
মাথাভাঙা ১ নম্বর ব্লকের হাজরা হাট–১ গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্দরণ পখিহাগা এলাকায় এক ব্যবসায়ীর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বুধবার সকালে বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে একটি খোলা মাঠ থেকে উদ্ধার হয় ৩৪ বছর বয়সি ব্যবসায়ী মনিরাম দাসের দেহ। ঘটনাকে ঘিরে এলাকাজুড়ে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পরিবারের দাবি, এটি স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, বরং এর পিছনে খুনের ঘটনা জড়িয়ে থাকতে পারে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত মনিরাম দাসের বাড়ি অন্দরণ পখিহাগা এলাকায়। তিনি স্থানীয়ভাবে ব্যবসা করতেন এবং এলাকায় পরিচিত মুখ ছিলেন। মঙ্গলবার রাতে তিনি বাড়ি থেকে বাইক নিয়ে বেরিয়ে যান। তারপর আর বাড়ি ফেরেননি। বুধবার সকালে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় শোরগোল পড়ে যায়।
মৃতের ভাই প্রসেনজিৎ দাস জানান, মঙ্গলবার রাত প্রায় সাড়ে ১০টা নাগাদ তাঁর দাদা বাড়ি থেকে বাইক নিয়ে বেরিয়ে যান। এরপর রাত প্রায় সাড়ে ৩টা নাগাদ তিনি তাঁর স্ত্রীকে ফোন করে জানান যে কিছুক্ষণের মধ্যেই বাড়ি ফিরে আসবেন। কিন্তু তারপর আর তাঁর সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
বুধবার ভোরে এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা মর্নিং ওয়াকে বেরিয়ে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে একটি খোলা মাঠে এক ব্যক্তির দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেখতে পান, সেটি মনিরাম দাসের দেহ। সঙ্গে সঙ্গে মাথাভাঙা থানায় খবর দেওয়া হয়।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে মাথাভাঙা মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। পরে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
প্রসেনজিৎ দাসের দাবি, তাঁর দাদার মৃত্যুর ঘটনায় একাধিক প্রশ্ন উঠে আসছে। তিনি জানান, দেহে দৃশ্যমান কোনও বড় আঘাতের চিহ্ন না থাকলেও পরিস্থিতি দেখে তাঁদের সন্দেহ হচ্ছে এটি খুনের ঘটনা হতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, শান্তিপূর্ণ এলাকায় এমন রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে। অনেকেই ঘটনার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। মৃত ব্যক্তির শেষ ফোনকল, গতিবিধি এবং ঘটনাস্থলের আশপাশের বিভিন্ন তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে মনে করছে তদন্তকারী আধিকারিকরা।
এই রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে মনিরাম দাসের পরিবারে। পাশাপাশি গোটা এলাকায় তৈরি হয়েছে উদ্বেগ ও আতঙ্কের পরিবেশ।

