তুফানগঞ্জ, ২৫ মে:
যেই কথা সেই কাজ! ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার একেবারে উন্নয়নের সংকল্প নিয়ে মাঠপর্যায়ে নামলেন তুফানগঞ্জের নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক মালতী রাভা রায়। নির্বাচনের আগে তুফানগঞ্জবাসীর কাছে তাঁর প্রধান অঙ্গীকারই ছিল রায়ঢাক নদীর ওপর বহু প্রতীক্ষিত ‘জালধোয়া সেতু’ নির্মাণ। আর বিপুল ভোটে জয়লাভের পরেই সেই দেওয়া কথা রাখতে আজ প্রশাসনিক যুদ্ধকালীন তৎপরতায় এলাকা পরিদর্শনে নামলেন বিধায়ক।
আজ বিডিও, বিএলআরও, এস,ডি,এল,আরও এবং পিডব্লিউডি-র একঝাঁক শীর্ষ ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে নিয়ে শালডাঙা থেকে রামপুর সীমান্ত পর্যন্ত সেতুর প্রস্তাবিত সমগ্র এলাকা পায়ে হেঁটে খতিয়ে দেখেন তিনি। বিধায়ককে সরাসরি মাঠপর্যায়ে এভাবে কাজের তদারকি করতে দেখে এবং দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণের আলো দেখতে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে ওঠেন এলাকার সাধারণ মানুষ।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পূর্ববর্তী সরকারগুলোর উদাসীনতার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন মালতী রাভা রায়। তিনি তোপ দেগে বলেন, “বিগত ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট এবং ১৫ বছরের তৃণমূল সরকার এই জালধোয়া সেতু নিয়ে তুফানগঞ্জের মানুষের সঙ্গে শুধুই ভাওতাবাজি করেছে। ২০২৪ সালের বাজেটে এই সেতুর নাম তুলে তৃণমূল অকাল হোলি খেললেও বাস্তবে এক ছটাক কাজ হয়নি। বারবার কেবল ভুয়ো শিলান্যাস করে মানুষের আবেগ নিয়ে খেলা হয়েছে।”
সেতু না থাকায় এই অঞ্চলের স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী থেকে শুরু করে আমজনতার দুর্ভোগের চিত্র তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “নদী পার হতে না পারলে এই এলাকার মানুষকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পথ ঘুরে বিডিও কিংবা এসডিও অফিসে যেতে হয়। এই দুর্দশার দিন এবার শেষ। এবার কেন্দ্রে ও রাজ্যে একই ডাবল ইঞ্জিনের সরকার এসেছে। আর আমার এই বিধায়ক থাকাকালীনই ডাবল ইঞ্জিনের সরকারের হাত ধরে জালধোয়া সেতু নির্মিত হবে—এটা আমার চ্যালেঞ্জ।” বিধায়কের এই ঝোড়ো তৎপরতা এবং উন্নয়নের সদিচ্ছায় স্বভাবতই ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে সমগ্র তুফানগঞ্জ জুড়ে।

