জলপাইগুড়ি, ৮ জুন:
ডুয়ার্সের বানারহাট ব্লকের কাঁঠালগুড়ি চা বাগানে একটি হস্তি শাবকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নালায় পড়ে দীর্ঘক্ষণ প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত মৃত্যু হয় শাবকটির। ঘটনাকে ঘিরে শোকের পাশাপাশি আতঙ্কও ছড়িয়ে পড়েছে চা বাগান এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কাঁঠালগুড়ি চা বাগানের ১৩ নম্বর সেকশনের একটি গভীর নালায় অসাবধানতাবশত পড়ে যায় হস্তি শাবকটি। নালার গঠন এমন ছিল যে শাবকটি পড়ে যাওয়ার পর সম্পূর্ণ উল্টে যায় এবং তার চারটি পা উপরের দিকে উঠে থাকে। বারবার উপরে ওঠার চেষ্টা করলেও সে সফল হতে পারেনি। উল্টে প্রতিবার নড়াচড়া করার সঙ্গে সঙ্গে নালার পাশের আলগা মাটি তার শরীরের উপর ভেঙে পড়তে থাকে। ধীরে ধীরে ক্লান্ত ও অসহায় হয়ে পড়ে শাবকটি এবং শেষ পর্যন্ত সেখানেই তার মৃত্যু হয় বলে অনুমান করা হচ্ছে।
চা বাগানের এক শ্রমিক প্রথম নালার মধ্যে হস্তি শাবকটিকে দেখতে পান। খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়তেই এলাকার বহু মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় জমাতে শুরু করেন। পরে বিষয়টি চা বাগান কর্তৃপক্ষ এবং বনদপ্তরকে জানানো হলে বনকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন।
প্রাথমিকভাবে বনদপ্তরের অনুমান, নিউ ডুয়ার্স এলাকার জঙ্গল থেকে রেতি জঙ্গলের দিকে একটি হাতির দল যাতায়াত করছিল। সেই সময় কোনোভাবে দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে বা পথ চলতে গিয়ে শাবকটি নালায় পড়ে যায়। তবে কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।
ঘটনার পর থেকেই উদ্বেগে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বনাঞ্চল সংলগ্ন এলাকাগুলিতে সাধারণত কোনো হস্তি শাবকের মৃত্যু হলে তার দল পরবর্তীতে সেই এলাকায় ফিরে আসে বলে জানা যায়। ফলে মৃত শাবকটির খোঁজে হাতির দল চা বাগান এলাকায় চলে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাসিন্দারা। এতে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাতের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে বলে মত স্থানীয়দের।
এই পরিস্থিতিতে কাঁঠালগুড়ি চা বাগান এলাকার বাসিন্দারা বনদপ্তরের কাছে অতিরিক্ত নজরদারি ও টহলদারির দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, হাতির দল এলাকায় প্রবেশ করলে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেজন্য আগে থেকেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি স্থানীয়দেরও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। হস্তি শাবকের এই করুণ মৃত্যু আবারও মানববসতি ও বন্যপ্রাণীর চলাচলের পথের মধ্যে সংঘাতের বিষয়টিকে সামনে এনে দিয়েছে।

