শিলিগুড়ি, ২২ জুলাই:
অল্পের জন্য বড়সড় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেল শিলিগুড়ি পুরনিগম। বুধবার বেলা প্রায় সাড়ে ১১টা নাগাদ শিলিগুড়ি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের জেনারেটর কক্ষে হঠাৎ আগুন লাগার ঘটনায় কিছু সময়ের জন্য চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, বিদ্যুৎ সংযোগে অতিরিক্ত চাপ পড়ার ফলেই জেনারেটর রুমের মেন ইলেকট্রিক্যাল বক্সে আগুন লাগে।
প্রতিদিনের মতোই ওই সময় পুরনিগমের বিভিন্ন বিভাগে কর্মীরা নিজ নিজ কাজে ব্যস্ত ছিলেন। হঠাৎ করেই জেনারেটর কক্ষ থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে “আগুন, আগুন” চিৎকারে ছুটোছুটি শুরু হয়ে যায়। ঘটনায় কিছু সময়ের জন্য আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হলেও উপস্থিত কর্মীরা দ্রুত পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে আগুন নেভানোর কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন।
জানা গিয়েছে, জেনারেটর রুমে থাকা মেন ইলেকট্রিক্যাল বক্সে আগুন লাগার পর কর্মীরা প্রাথমিক অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের সাহায্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা শুরু করেন। তাঁদের তৎপরতায় দমকলের গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। ফলে আগুন অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ পায়নি এবং বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
ঘটনার পর পুরনিগমের সংশ্লিষ্ট বিভাগ বিদ্যুৎ সংযোগ এবং জেনারেটর কক্ষের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখতে শুরু করেছে। প্রাথমিক তদন্তে অতিরিক্ত বিদ্যুৎচাপকেই আগুন লাগার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে মনে করা হলেও বিষয়টি বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে।
শিলিগুড়ি পুরনিগমের বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত বাস্তুকার দেবব্রত মজুমদার জানান, আগুনের তীব্রতা খুব বেশি ছিল না। কর্মীদের দ্রুত উপস্থিত বুদ্ধি এবং তৎপরতার ফলেই আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, দমকল পৌঁছানোর আগেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায় এবং কোনও বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
এই ঘটনায় পুরনিগমের কর্মীদের দ্রুত পদক্ষেপ ও সতর্কতার প্রশংসা করেছেন অনেকেই। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে বৈদ্যুতিক পরিকাঠামো নিয়মিত পরীক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণের ওপর আরও জোর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে এসেছে।

