মাথাভাঙা, ২৮ আগস্ট
শ্রমজীবী ও দুঃস্থ মানুষের মুখে সস্তায় খাবার তুলে দিতে ২০২১ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি রাজ্যে চালু হয়েছিল ‘মা ক্যান্টিন’। মাত্র ৫ টাকায় ভাত, ডাল, সবজি ও ডিম দেওয়ার এই উদ্যোগ পরবর্তীতে সরকার পরিবর্তনের পর ২০২৬ সালে ‘মা আহার’ নামে চালু করা হয়। মেনুতেও আনা হয়েছে পরিবর্তন। নির্দিষ্ট দিনে ৫ টাকায় মাছ-ভাত, ডিম এবং নিরামিষ খাবার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে খাবারের মান নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও ‘মা আহার’ ক্যান্টিনের পরিকাঠামো ও খাওয়ার পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে মাথাভাঙা শহরের পুরোনো বাসস্ট্যান্ড এলাকার ক্যান্টিনে। অভিযোগ, শৌচালয়ের সামনে নোংরা ও দুর্গন্ধময় পরিবেশের পাশাপাশি পর্যাপ্ত বসার জায়গাও নেই। ফলে অনেককেই দাঁড়িয়ে কিংবা মাটিতে বসে খাবার খেতে হচ্ছে। বৃষ্টির সময় ভাঙা টিনের শেড দিয়ে জল পড়ায় সমস্যাও আরও বেড়ে যায়।
মাথাভাঙা শহরে বর্তমানে দুটি ‘মা আহার’ ক্যান্টিন রয়েছে। একটি মহকুমা হাসপাতাল চত্বরে এবং অন্যটি পুরোনো বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। অভিযোগের মূল কেন্দ্র পুরোনো বাসস্ট্যান্ডের ক্যান্টিনটি।
নিয়মিত এই ক্যান্টিনে খেতে আসা শ্যাম রবিদাস জানান, খাবারের মান ভালো হলেও পরিবেশ নিয়ে সমস্যা রয়েছে। শেড দিয়ে জল পড়ে এবং পর্যাপ্ত বসার জায়গা নেই। পেশায় রাজমিস্ত্রি সুধান বর্মন বলেন, ৫ টাকায় মাছ-ভাত পাওয়ায় তাঁরা উপকৃত হচ্ছেন, তবে বসার জায়গা ও শেড দ্রুত মেরামত করা প্রয়োজন।
চলভোলা বর্মনের কথায়, যেখানে সাধারণ হোটেলে খাবারের জন্য ৫০-৬০ টাকা খরচ হয়, সেখানে মাত্র ৫ টাকায় খাবার পাওয়া যায়। তবে বসার জায়গার অভাব এবং বৃষ্টির জল পড়ার সমস্যা রয়েছে। একই অভিযোগ নজরুল সরকারেরও। তাঁর দাবি, বসার জায়গা না থাকায় অনেকেই দাঁড়িয়ে খাবার খেতে বাধ্য হন। পাশাপাশি পানীয় জলের ব্যবস্থাও পর্যাপ্ত নয়।
অন্যদিকে, গঙ্গা স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যা ছায়া সেন শর্মার অভিযোগ, ক্যান্টিনের নিচের ড্রেন ও শৌচালয় থেকে দুর্গন্ধ ছড়ায়। পরিকাঠামোর উন্নয়নের বিষয়টি একাধিকবার জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি তাঁর।
যদিও বিষয়টি নিয়ে আশ্বাস দিয়েছে মাথাভাঙা পুরসভা। পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসার স্বপনকুমার পাত্র জানান, বিষয়টি তাঁদের নজরে রয়েছে। দ্রুত ক্যান্টিনের খাবার খাওয়ার ঘরের পরিকাঠামোর মান উন্নয়ন করা হবে।
অর্থাৎ, ৫ টাকায় খাবার পাওয়ার সুবিধা থাকলেও সেই খাবার খাওয়ার পরিবেশ নিয়ে যে প্রশ্ন উঠছে, এখন সেটিই প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।

