শিলিগুড়ি ,১৪ আগস্ট
দুর্গম পাহাড়, প্রতিকূল আবহাওয়া আর দীর্ঘ সময়ের কঠিন সামিট পুশ—সব বাধা পেরিয়ে লাদাখের ৬২১০ মিটার উচ্চতার মাউন্ট কাংগিয়ারাগের চূড়ায় পৌঁছলেন উত্তরবঙ্গের পাঁচ পর্বতারোহী। সফল অভিযান শেষে শিলিগুড়িতে ফিরতেই তাঁদের ঘিরে দেখা গেল উৎসাহ-উদ্দীপনা। শুক্রবার হিমালয়ান ন্যাচার অ্যান্ড অ্যাডভেঞ্চার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে পাঁচ পর্বতারোহীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী তথা শিলিগুড়ির বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ।
এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন শিলিগুড়ির পর্বতারোহী গণেশ সাহা। তাঁর সঙ্গে ছিলেন কাজল কুমার দত্ত, সুদেব রায়, টিনা খান এবং পেমেলা ভুটিয়া। দলের সদস্যরা শিলিগুড়ি, দার্জিলিং ও মালবাজার এলাকার বাসিন্দা।
২৫ জুলাই শিলিগুড়ি থেকে শুরু হয় তাঁদের যাত্রা। ২৭ জুলাই লাদাখে পৌঁছন তাঁরা। কিন্তু অভিযান শুরুর পরই আবহাওয়া বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। ৩০ জুলাই লাদাখের আবহাওয়া দপ্তরের তরফে ৩১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি ও তুষারপাতের সম্ভাবনার কথা জানিয়ে কমলা সতর্কতা জারি করা হয়। ফলে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেই সামিটের প্রস্তুতি নিতে হয় অভিযাত্রীদের।
শেষ পর্যন্ত ৭ আগস্ট আসে সেই সাফল্যের মুহূর্ত। দীর্ঘ প্রস্তুতি ও কঠিন পরিস্থিতির পর মাউন্ট কাংগিয়ারাগের চূড়ায় পৌঁছে যান পাঁচজন। পর্বতারোহীদের বক্তব্য অনুযায়ী, সামিট পুশ চলেছে প্রায় সাড়ে ১৬ ঘণ্টা। দীর্ঘ এই যাত্রাপথে শারীরিক ক্লান্তির পাশাপাশি আবহাওয়ার প্রতিকূলতার সঙ্গেও লড়াই করতে হয়েছে তাঁদের।
তবে সাফল্যের পরও তাঁদের কথায় উঠে এসেছে পর্বতারোহণের আরেক বাস্তব চিত্র। তাঁদের দাবি, ইচ্ছা ও দক্ষতা থাকা সত্ত্বেও আর্থিক সামর্থ্যের অভাবে বহু পর্বতারোহী বড় অভিযানে যেতে পারেন না। অন্যান্য খেলাধুলোর মতো পর্বতারোহণের ক্ষেত্রেও সরকারি সহযোগিতা ও আর্থিক সহায়তা আরও বাড়ানো প্রয়োজন বলে মনে করছেন তাঁরা। ভবিষ্যতে আরও কয়েকটি শৃঙ্গ অভিযানের পরিকল্পনাও রয়েছে এই দলের সদস্যদের।
এই দাবি গুরুত্ব দিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন শঙ্কর ঘোষ। পর্বতারোহীদের সরকারি স্তরে কীভাবে আরও সহযোগিতা করা যায়, তা নিয়ে ক্রীড়ামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে জানান তিনি।
একদিকে ৬২১০ মিটারের শৃঙ্গ জয়ের সাফল্য, অন্যদিকে সরকারি সহায়তার প্রত্যাশা—পাঁচ পর্বতারোহীর এই অভিযান তাই শুধু একটি পর্বতারোহণের গল্প নয়, উত্তরবঙ্গের প্রতিভাবান পর্বতারোহীদের জন্য আরও সুযোগ তৈরির দাবিকেও সামনে এনে দিল।

