আলিপুরদুয়ার, ১ জানুয়ারী :
কালচিনি ব্লকের রাজনৈতিক মহলে বড়সড় পরিবর্তনের ছবি উঠে এল পাসাং লামার মৃত্যুর চার মাসের মাথায়। একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের দাপুটে নেতা ও পরবর্তীকালে কংগ্রেস নেতা পাসাং লামার পরিবারের সদস্যরা এবার কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করলেন। বৃহস্পতিবার পাসাং লামার দুই স্ত্রী, ভাই-সহ কংগ্রেসের এক পঞ্চায়েত সদস্য এবং কয়েকশো কর্মী-সমর্থক আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূলে যোগ দেন। এই যোগদান ঘিরে কালচিনি ব্লকের রাজনীতিতে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, পাসাং লামা একসময় কালচিনি ব্লকে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। তিনি দলের ব্লক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং এলাকায় সংগঠন গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে ওই বছরই তাঁর রাজনৈতিক জীবনে বড়সড় মোড় আসে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে সরকারি সম্পত্তি সংক্রান্ত সহ একাধিক মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। সেই ঘটনার পর দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে তাঁকে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কার করা হয়।
এরপর পাসাং লামা কংগ্রেসে যোগদান করেন এবং পঞ্চায়েত নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে পঞ্চায়েত সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। তাঁর সঙ্গে কালচিনি ব্লকের একাধিক অঞ্চল থেকে কয়েকশো কর্মী-সমর্থকও কংগ্রেসে যোগ দেন। সেই সময় কংগ্রেসের সংগঠন কিছুটা শক্তিশালী হলেও, পাসাং লামার মৃত্যুর পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে শুরু করে। নেতৃত্বের অভাব এবং সংগঠন ধরে রাখতে না পারার অভিযোগ ওঠে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে।
এই প্রেক্ষাপটেই বৃহস্পতিবার পাসাং লামার পরিবারের সদস্যরা ও তাঁর ঘনিষ্ঠ অনুগামীরা কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেন। এদিন কালচিনি ব্লকের ট্রলি লাইন এলাকায় পাসাং লামার বাড়ির কাছের একটি মাঠে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে যোগদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সেখানে দলের পতাকা হাতে তুলে দেওয়া হয় নতুন সদস্যদের।
এই যোগদান সভায় উপস্থিত ছিলেন আলিপুরদুয়ার জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি প্রকাশ চিক বরাইক, চেয়ারম্যান গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা, কালচিনি ব্লক সভাপতি প্রেমা লামা-সহ দলের একাধিক নেতা ও কর্মীরা। সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে জেলা সভাপতি প্রকাশ চিক বরাইক বলেন, “পাসাং লামার পরিবার এবং তাঁর কর্মী-সমর্থকেরা তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দেওয়ায় আমাদের দল আরও শক্তিশালী হলো। আগামী দিনে সবাইকে একসঙ্গে নিয়ে এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজ এবং সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোই আমাদের লক্ষ্য।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই যোগদানের ফলে কালচিনি ব্লকে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংগঠনিক ভিত আরও মজবুত হবে। একইসঙ্গে আসন্ন নির্বাচনের আগে কংগ্রেসের পক্ষে এটি একটি বড় ধাক্কা বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

