শিলিগুড়ি, ৩০ জুন:
বর্ষাকালে জল জমার সমস্যা দূর করা, বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ এবং দীর্ঘদিনের পার্কিং সংকটের সমাধানে একাধিক উদ্যোগ নিল শিলিগুড়ি পুরনিগম। মঙ্গলবার শহরের বিভিন্ন এলাকায় পরিদর্শনে যান পুরনিগমের কমিশনার বীর বিক্রম রাই। তাঁর সঙ্গে ছিলেন পুরনিগম ও শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের আধিকারিকরা।
দিনের প্রথম পর্বে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখেন কমিশনার। এসএফ রোডে পরিদর্শনের সময় রাস্তার ধারে একাধিক দোকানের সামনে ড্রেনের উপর স্থায়ী ও অস্থায়ী কাঠামো নির্মাণের বিষয়টি নজরে আসে। এর ফলে নিকাশি ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ড্রেন পরিষ্কারের কাজেও সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট দোকান মালিকদের আগামী তিন দিনের মধ্যে ওই সমস্ত কাঠামো সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন কমিশনার। নির্দেশ অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি স্পষ্ট জানান।
এদিন বেআইনিভাবে লাগানো বড় বড় হোর্ডিংগুলিও খতিয়ে দেখা হয়। যেসব হোর্ডিং নির্ধারিত নিয়ম না মেনে বসানো হয়েছে, সেগুলির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন কমিশনার।
এছাড়াও এসএফ রোডের একটি বহুতলের সামনে নির্মিত কয়েকটি দোকান ভবনের প্রবেশপথ আংশিকভাবে বন্ধ করে রেখেছে বলে অভিযোগ ওঠে। সংশ্লিষ্ট নির্মাণ বৈধ কি না, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রাক্তন কাউন্সিলর শালিনী ডালমিয়া কমিশনারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ওয়ার্ডবাসীর দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান এবং বর্ষাকালে জল জমার দুর্ভোগ কমাতেই এই পরিদর্শন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে, শহরের দীর্ঘদিনের পার্কিং সমস্যার স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে এদিন কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামের মেলার মাঠও পরিদর্শন করেন কমিশনার বীর বিক্রম রাই। উপস্থিত ছিলেন শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক ডিসিপি কাজী শামসুদ্দিন আহমেদ, পুরনিগমের অন্যান্য আধিকারিক এবং শিলিগুড়ির ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
পরিদর্শনে কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামের মেলার মাঠকে আধুনিক পার্কিং জোন হিসেবে গড়ে তোলার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হয়। কোথায় কতগুলি গাড়ি রাখা সম্ভব, প্রবেশ ও বের হওয়ার রাস্তা কীভাবে তৈরি করা হবে এবং প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো কীভাবে গড়ে তোলা যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন আধিকারিকরা।
পরিদর্শন শেষে কমিশনার বীর বিক্রম রাই জানান, কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামের মেলার মাঠে পার্কিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কী ধরনের পরিকাঠামো এবং কতটা আর্থিক বরাদ্দ প্রয়োজন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে।
শিলিগুড়ির ব্যবসায়ী প্রতিনিধি রাজু সাহা বলেন, শহরের অন্যতম বড় সমস্যা হল পর্যাপ্ত পার্কিংয়ের অভাব। প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক মানুষ কেনাকাটার জন্য শহরে এলেও নির্দিষ্ট পার্কিং না থাকায় রাস্তার ধারে গাড়ি রাখতে বাধ্য হন। এর ফলে প্রায় প্রতিদিনই যানজটের সৃষ্টি হয়। নতুন পার্কিং ব্যবস্থা চালু হলে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ— উভয়েই উপকৃত হবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বর্ষার আগে নিকাশি ব্যবস্থা সচল রাখা থেকে শুরু করে শহরের যানজট কমাতে নতুন পার্কিংয়ের পরিকল্পনা— দুই ক্ষেত্রেই পুরনিগমের সক্রিয় উদ্যোগ শহরের পরিকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন শহরবাসী।

