কোচবিহার, ২৬ জুলাই:
বিজেপি এবং ডিওয়াইএফআই কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে রবিবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল কোচবিহার শহরের গুঞ্জবাড়ি মোড় সংলগ্ন এলাকা। দুই রাজনৈতিক সংগঠনের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে প্রথমে বচসা, পরে হাতাহাতি এবং সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনায় দুই পক্ষেরই বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন গুঞ্জবাড়ি মোড়ের কাছে ক্ষত্রিয় সোসাইটির হলঘরে বামপন্থী যুব সংগঠনের উদ্যোগে ‘যুবশক্তি’ পত্রিকার বার্ষিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। সেই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাম ছাত্র-যুব সংগঠনের কর্মী-সমর্থকেরা আসছিলেন।
ডিওয়াইএফআই এবং বামপন্থী সংগঠনের অভিযোগ, অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসার পথে তাঁদের কর্মীদের উপর প্রথমে বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা হামলা চালান। এরপর গুঞ্জবাড়ি মোড়ে অনুষ্ঠানস্থলের সামনে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে তা হাতাহাতি এবং সংঘর্ষের রূপ নেয় বলে অভিযোগ।
অন্যদিকে, এই ঘটনার বিষয়ে বিজেপির পক্ষ থেকে কী বক্তব্য, তা এখনও জানা যায়নি। তাদের প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
সংঘর্ষের জেরে কিছু সময়ের জন্য গোটা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, সংঘর্ষে দুই পক্ষেরই বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। যদিও আহতের সঠিক সংখ্যা এবং তাঁদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে এখনও প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোচবিহারের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। কী কারণে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত এবং এর নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতির উপর প্রশাসন কড়া নজর রাখছে এবং নতুন করে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তদন্তের পরই সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ এবং দায় নির্ধারণ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে প্রশাসন।

