শিলিগুড়ি, ৯ জুন:
শিলিগুড়িতে প্রকাশ্যে পশু জবাই এবং সরকারি নিয়ম না মেনে মাংস বিক্রির অভিযোগ তুলে প্রধান নগর থানায় স্মারকলিপি জমা দিল হিন্দু সভ্য সমাজ। মঙ্গলবার সংগঠনের সদস্যরা থানায় উপস্থিত হয়ে ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকের হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন এবং অবিলম্বে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি জানান।
সংগঠনের অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নির্দিষ্ট নির্দেশিকা অনুযায়ী মাংসের দোকানগুলিতে আচ্ছাদন, পর্দা বা কালো কাঁচ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যাতে প্রকাশ্যে পশু জবাই বা মাংস প্রদর্শন না করা হয়। কিন্তু শিলিগুড়ির চম্পাসারি থেকে দেবীডাঙা পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় একাধিক দোকানে সেই নিয়ম মানা হচ্ছে না বলে দাবি তাদের।
হিন্দু সভ্য সমাজের সদস্যদের বক্তব্য, বিভিন্ন জায়গায় প্রকাশ্যেই পশু জবাই করা হচ্ছে এবং খোলা অবস্থায় মাংস বিক্রি করা হচ্ছে। এর ফলে শুধু সরকারি নির্দেশিকাই লঙ্ঘিত হচ্ছে না, সাধারণ মানুষকেও অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু, মহিলা ও বয়স্কদের উপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ সংগঠনের।
তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের ঘটনা চললেও প্রশাসনের তরফে কার্যকর নজরদারি বা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে নিয়ম ভঙ্গের ঘটনা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। সেই কারণেই এদিন থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়ে বিষয়টির প্রতি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।
স্মারকলিপিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে নিয়মিত পরিদর্শন চালিয়ে সরকারি নির্দেশিকা কঠোরভাবে কার্যকর করতে হবে। পাশাপাশি যেখানে প্রকাশ্যে পশু জবাই বা নিয়ম বহির্ভূতভাবে মাংস বিক্রির অভিযোগ প্রমাণিত হবে, সেখানে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানানো হয়েছে।
হিন্দু সভ্য সমাজের প্রতিনিধিরা জানান, তাদের এই কর্মসূচির উদ্দেশ্য কোনও ব্যক্তি বা সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করা নয়; বরং সরকারি নিয়মের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা এবং জনস্বার্থ রক্ষা করা। প্রশাসন বিষয়টির গুরুত্ব উপলব্ধি করে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেছেন।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন অভিযোগের ভিত্তিতে প্রশাসন কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেদিকেই নজর রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।

