মাথাভাঙ্গা, ৩০ জুন:
মঙ্গলবার ভোরের শান্ত পরিবেশ আচমকাই উত্তেজনায় ভরে ওঠে মাথাভাঙ্গা শহরে। শহরের সুটুঙ্গা সেতু থেকে এক অজ্ঞাতপরিচয় গৃহবধূর নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার পর ওই মহিলা প্রাণ বাঁচানোর জন্য আর্তনাদ করলেও, প্রবল স্রোতের কারণে শেষ পর্যন্ত তাঁকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। মুহূর্তের মধ্যেই তিনি স্রোতে ভেসে নিখোঁজ হয়ে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল প্রায় ৬টা নাগাদ নাইটি পরিহিত এক গৃহবধূ সুটুঙ্গা সেতুর ওপর এসে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিলেন। এরপর আচমকাই তিনি সেতু থেকে সুটুঙ্গা নদীতে ঝাঁপ দেন। ঘটনাটি এতটাই আকস্মিক ছিল যে প্রথমে উপস্থিত কেউই বুঝে উঠতে পারেননি কী ঘটেছে।
নদীতে পড়ার পর ওই গৃহবধূ “বাঁচাও, বাঁচাও” বলে চিৎকার করতে থাকেন। তাঁর আর্তনাদ শুনে নদীতে মাছ ধরতে থাকা কয়েকজন মৎস্যজীবী দ্রুত নৌকা নিয়ে তাঁর দিকে ছুটে যান। তাঁরা প্রাণপণ চেষ্টা চালালেও নদীর প্রবল স্রোত ও পানির গভীরতার কারণে মহিলাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই তিনি স্রোতে তলিয়ে যান এবং পরে আর তাঁর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
ঘটনার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়তেই সুটুঙ্গা সেতু ও নদীর দুই পাড়ে ভিড় জমাতে শুরু করেন বহু মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়। অনেকেই নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে দীর্ঘক্ষণ নিখোঁজ মহিলার খোঁজ চালানোর চেষ্টা করেন।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় মাথাভাঙ্গা থানার পুলিশ। পুলিশ স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করে এবং নিখোঁজ মহিলার পরিচয় জানার চেষ্টা শুরু করে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ওই গৃহবধূর পরিচয় জানা যায়নি। তিনি কোথা থেকে এসেছিলেন বা কী কারণে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিখোঁজ মহিলার সন্ধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি আশপাশের থানাগুলির সঙ্গেও যোগাযোগ করে তাঁর পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। নদীর স্রোতের দিক বিবেচনা করে সম্ভাব্য এলাকাগুলিতেও নজর রাখা হচ্ছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় নানা জল্পনা তৈরি হলেও পুলিশ এখনও পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট কারণের কথা জানায়নি। আত্মহত্যার চেষ্টা, দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন করা হয়েছে, কেউ যদি ওই মহিলার পরিচয় সম্পর্কে কোনো তথ্য জানেন, তাহলে দ্রুত পুলিশকে জানান। একই সঙ্গে নদীর আশপাশে অযথা ভিড় না করারও অনুরোধ জানানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

