কোচবিহার, ৪ জুলাই:
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর এলাকায় সন্ত্রাস, বাড়িঘর ভাঙচুর, লুটপাট এবং সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগকে কেন্দ্র করে তুফানগঞ্জের বালাভুত গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে। শনিবার বালাভুত গ্রাম পঞ্চায়েতের চরভালাভুত এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের পঞ্চায়েত প্রধান আফতার আলী বেপারীর বাড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভে সামিল হন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ এবং বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে এলাকায় ব্যাপক সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করা হয়। তাঁদের দাবি, তৃণমূল নেতা আফতার আলী বেপারী ও তাঁর অনুগামীরা বিরোধী রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী বহু পরিবারের ওপর অত্যাচার চালান। অভিযোগ, সেই সময় চরভালাভুত এলাকায় অন্তত ২৬টি বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয় এবং বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী লুট করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই ঘটনার বিচার না হওয়ায় ক্ষোভ জমে ছিল এলাকাবাসীর মধ্যে।
বিক্ষোভকারীদের আরও অভিযোগ, শুধু রাজনৈতিক সন্ত্রাসই নয়, সরকারি উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। তাঁদের দাবি, ‘আমার পাড়া, আমার সমাধান’ কর্মসূচির আওতায় বুথভিত্তিক প্রায় ১০ লক্ষ টাকার উন্নয়নমূলক কাজে দুর্নীতি হয়েছে। প্রকল্পের অর্থের সঠিক ব্যবহার হয়নি এবং বাস্তবে বহু কাজ সম্পূর্ণ না হলেও কাগজে-কলমে তা সম্পন্ন দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা। এই সমস্ত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে এদিন পঞ্চায়েত প্রধানের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়।
বিক্ষোভ চলাকালীন এলাকায় উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি হলেও পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, সেদিকে নজর রাখে প্রশাসন। বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন স্লোগান তুলে তাঁদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং অতীতের ঘটনাগুলির বিচার দাবি করেন।
যদিও অভিযোগের বিষয়ে তৃণমূল কংগ্রেস বা অভিযুক্ত পঞ্চায়েত প্রধান আফতার আলী বেপারীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

