কোচবিহার, ১৬ জুন:
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত জনকল্যাণ শিবিরে দ্বিতীয় দিনেও উপভোক্তাদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গেল কোচবিহারে। রাজ্যজুড়ে চলা এই বিশেষ কর্মসূচির অংশ হিসেবে কোচবিহার শহরের দশটি ওয়ার্ডকে নিয়ে রবীন্দ্র ভবনে আয়োজিত হয়েছে জনকল্যাণ শিবির। বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে আয়োজিত এই শিবিরে সকাল থেকেই মানুষের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ে।
শিবিরে উপস্থিত উপভোক্তারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, বার্ধক্য ভাতা, স্বাস্থ্যসাথী, কৃষক কল্যাণ প্রকল্প, ছাত্র-ছাত্রীদের বিভিন্ন সুবিধা, সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পসহ একাধিক সরকারি পরিষেবা সংক্রান্ত আবেদন, সমস্যা সমাধান এবং তথ্য সংগ্রহের সুযোগ পাচ্ছেন। ফলে শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রচুর মানুষ এই শিবিরে অংশগ্রহণ করছেন।
দ্বিতীয় দিনের শিবিরেও উপভোক্তাদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কাউন্টার খোলা হয়েছে যাতে সাধারণ মানুষ সহজেই তাঁদের প্রয়োজনীয় পরিষেবা ও তথ্য পেতে পারেন। পাশাপাশি আবেদনপত্র গ্রহণ, নথি যাচাই এবং সমস্যা সমাধানের জন্য বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকরাও উপস্থিত রয়েছেন।
এদিন জনকল্যাণ শিবির পরিদর্শনে আসেন কোচবিহার দক্ষিণ বিধানসভার বিজেপির প্রাক্তন বিধায়ক নিখিল রঞ্জন দে। তিনি শিবিরের বিভিন্ন কাউন্টার ঘুরে দেখেন এবং উপভোক্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। শিবিরে আসা মানুষের অভিজ্ঞতা ও বিভিন্ন পরিষেবা প্রদানের পদ্ধতি সম্পর্কেও খোঁজখবর নেন তিনি।
পরিদর্শন শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিখিল রঞ্জন দে শিবিরের সামগ্রিক ব্যবস্থা, মানুষের অংশগ্রহণ এবং সরকারি পরিষেবা প্রদান সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নিজের মতামত ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে যে কোনও জনমুখী উদ্যোগের সঠিক ও স্বচ্ছ বাস্তবায়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি উপভোক্তাদের সমস্যার দ্রুত সমাধানের বিষয়েও গুরুত্ব আরোপ করেন তিনি।
প্রশাসনের দাবি, জনকল্যাণ শিবিরের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা আরও সহজলভ্য করে তোলাই মূল লক্ষ্য। সেই উদ্দেশ্যেই বিভিন্ন দফতরকে এক ছাতার নিচে এনে এই শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। আগামী দিনগুলিতেও জেলার বিভিন্ন এলাকায় এই ধরনের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি চলবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে।
শিবিরে মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি এবং পরিষেবা গ্রহণের আগ্রহ দেখে প্রশাসনিক কর্তাদের মতে, এই উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। ফলে আগামী দিনেও এই ধরনের কর্মসূচির প্রতি মানুষের অংশগ্রহণ আরও বাড়বে বলেই আশা করা হচ্ছে।

