কোচবিহার, ২৩ জুন:
গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বড়সড় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার করল কোচবিহার কোতোয়ালি থানার পুলিশ। জেলার হরিণচাওরা এলাকায় পরিচালিত এই অভিযানে দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, উদ্ধার হওয়া গাঁজা পাচারের উদ্দেশ্যে এক স্থান থেকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্দিষ্ট সূত্রে খবর পাওয়ার পরই কোচবিহার কোতোয়ালি থানার পক্ষ থেকে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়। সেই অনুযায়ী হরিণচাওরা এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয় এবং সন্দেহভাজনদের গতিবিধির উপর কড়া নজর রাখা হয়। পরে অভিযানের সময় একটি নির্দিষ্ট স্থান থেকে বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার করতে সক্ষম হন পুলিশকর্মীরা।
অভিযান চলাকালীন ঘটনাস্থল থেকেই দু’জনকে আটক করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে তাঁদের গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধার হওয়া মাদকের পরিমাণ যথেষ্ট উল্লেখযোগ্য বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। যদিও সরকারি ভাবে গাঁজার সঠিক ওজন এখনও প্রকাশ করা হয়নি, তবুও তদন্তকারীদের মতে এটি একটি বড় মাদক পাচারচক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে।
পুলিশের অনুমান, উদ্ধার হওয়া গাঁজা অন্যত্র পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তবে এই মাদক কোথা থেকে আনা হয়েছিল এবং কোন গন্তব্যে পৌঁছানোর পরিকল্পনা ছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পাশাপাশি এই পাচারচক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গ্রেফতার হওয়া দুই অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা।
এই বিশেষ অভিযানের নেতৃত্ব দেন কোচবিহার কোতোয়ালি থানার আইসি। আইন অনুযায়ী গোটা অভিযান পরিচালনার সময় একজন ম্যাজিস্ট্রেটও উপস্থিত ছিলেন। ফলে উদ্ধার প্রক্রিয়া এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই সম্পন্ন করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে দাবি।
ঘটনার পর উদ্ধার হওয়া গাঁজা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং গ্রেফতার হওয়া দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ধারা প্রয়োগ করে মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্তকারীরা এখন মাদকের উৎস, পাচারের রুট এবং এর সঙ্গে জড়িত সম্ভাব্য চক্রের সন্ধানে নেমেছেন।
পুলিশের এক আধিকারিক জানান, জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক পাচার রুখতে ধারাবাহিকভাবে নজরদারি ও অভিযান চালানো হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এই ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে। কোচবিহারে সাম্প্রতিক এই উদ্ধার অভিযানকে মাদকবিরোধী লড়াইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবেই দেখছে পুলিশ প্রশাসন।
ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে কোচবিহার কোতোয়ালি থানার পুলিশ। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

