কোচবিহার, ১ জুলাই:
কোচবিহার শহরের বকশিবাড়ি এলাকায় নবম শ্রেণির এক ছাত্রের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বাড়ির ঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় ১৪ বছরের কিশোর স্বর্ণাব রায়ের দেহ। এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার, প্রতিবেশী এবং তাঁর বিদ্যালয়েও। কী কারণে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত ছাত্র স্বর্ণাব রায় কোচবিহারের একটি স্থানীয় বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র ছিল। তাঁর বাবা প্রতিম রায় একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত এবং মা একজন স্কুল শিক্ষিকা। পরিবারের দুই ভাইয়ের মধ্যে স্বর্ণাব ছিল ছোট।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, মঙ্গলবার রাতে প্রতিদিনের মতো দুই ভাই একসঙ্গে রাতের খাবার খায়। এরপর স্বর্ণাব নিজের ঘরে চলে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। প্রথমে বিষয়টি স্বাভাবিক বলেই মনে হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় কেটে যাওয়ার পরও সে ঘরের দরজা না খোলায় বড় ভাইয়ের সন্দেহ হয়। তিনি বিষয়টি তাঁদের মাকে জানান।
এরপর পরিবারের সদস্যরা বারবার দরজায় ধাক্কা দেন এবং স্বর্ণাবকে ডাকাডাকি করেন। কিন্তু ভেতর থেকে কোনও সাড়া না মেলায় উদ্বেগ বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত পরিবারের সদস্যরা দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকতেই স্বর্ণাবকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। দৃশ্যটি দেখে পরিবারের সদস্যরা ভেঙে পড়েন।
তড়িঘড়ি স্বর্ণাবকে উদ্ধার করে প্রথমে কোচবিহারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাঁর অবস্থার গুরুত্ব বিবেচনা করে কোচবিহার এমজেএন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ঘটনার খবর পেয়ে কোচবিহার কোতোয়ালি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। ঘরটি পরিদর্শন করার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন তদন্তকারীরা। দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি পরিবারের সদস্য, প্রতিবেশী এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এই ঘটনায় গোটা এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্যের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকেও এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ নিয়ে কোনও নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হচ্ছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ।

