শিলিগুড়ি, ৯ জুন:
শিলিগুড়ি শহরের ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডের পার্বতী ঘাট এলাকাকে কেন্দ্র করে ক্রমশ বাড়ছে অসন্তোষ। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ঘাট চত্বরে বহিরাগত যুবক-যুবতীদের আনাগোনা বেড়ে চলেছে এবং সেখানে প্রকাশ্যেই নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবনের ঘটনা ঘটছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এলাকাবাসীরা নিজেদের নিরাপত্তা ও সামাজিক পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতে শুরু করেছেন। অবশেষে সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে মঙ্গলবার প্রধাননগর থানায় লিখিত স্মারকলিপি জমা দেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের বেলায় তুলনামূলকভাবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও বিকেল গড়াতেই এবং সন্ধ্যার পর থেকে পার্বতী ঘাট এলাকায় ভিড় জমাতে শুরু করে একদল বহিরাগত যুবক-যুবতী। তাদের একাংশকে প্রকাশ্যে নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করতে দেখা যায় বলে দাবি এলাকাবাসীর। শুধু তাই নয়, অনেক সময় উচ্চস্বরে হৈচৈ, অশালীন আচরণ এবং সন্দেহজনক কার্যকলাপের কারণেও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।
বাসিন্দাদের বক্তব্য, পার্বতী ঘাট এলাকার বহু মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। পাশাপাশি সকাল-বিকেলে স্থানীয় বাসিন্দারা সেখানে হাঁটতে যান, অনেকে অবসর সময় কাটান এবং শিশু-কিশোররাও ওই এলাকায় যাতায়াত করে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে নেশার আসর এবং বহিরাগতদের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে সেখানে যাওয়া নিয়ে অনেকে দ্বিধায় পড়ছেন।
এলাকার একাধিক বাসিন্দার দাবি, বিষয়টি নিয়ে আগে মৌখিকভাবে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। তাই এদিন সংগঠিতভাবে প্রধাননগর থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়। স্মারকলিপিতে পার্বতী ঘাট এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহল চালু করা, সন্ধ্যার পর নজরদারি বাড়ানো এবং নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন ও অবৈধ কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
বাসিন্দাদের মতে, দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের উপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন অভিভাবকরা। তাঁদের দাবি, পার্বতী ঘাটের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ জনপরিসরকে নিরাপদ ও সুস্থ পরিবেশে ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনকে দ্রুত উদ্যোগী হতে হবে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। এখন স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ও প্রশাসন কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে, সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের।

