মাথাভাঙ্গা, ১৯ জুলাই:
একটানা বর্ষণের জেরে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে মাথাভাঙ্গা শহরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের অফিস পাড়া এলাকা। রাস্তায় হাঁটুসমান জল জমে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জল পেরিয়েই নিত্যদিনের কাজে বেরোতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। শুধু আবাসিক এলাকাই নয়, জল ঢুকে পড়েছে মাথাভাঙ্গার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী নেতাজী সুভাষ ক্রীড়াঙ্গনেও। ফলে মাঠের একাধিক অংশ জলমগ্ন হয়ে পড়ায় ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলার নিয়মিত অনুশীলন কার্যত বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দ্রুত কার্যকর জলনিকাশি ব্যবস্থার দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, খেলোয়াড় ও ক্রীড়াপ্রেমীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সম্প্রতি নেতাজী সুভাষ ক্রীড়াঙ্গন সংলগ্ন এলাকায় পেভার ব্লকের নতুন রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাস্তা নির্মাণের সময় পর্যাপ্ত ও পরিকল্পিত জলনিকাশি ব্যবস্থার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তায় জল জমে যাচ্ছে। একটানা বর্ষণে সেই সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। নিকাশি নালার জল উপচে রাস্তার পাশাপাশি আশপাশের বাড়ির সামনে এবং ক্রীড়াঙ্গনের ভেতরেও ঢুকে পড়ছে।
এর ফলে প্রতিদিনের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। অফিসপাড়া এলাকার বহু পরিবার বাড়ি থেকে বেরোতে কিংবা বাড়ি ফিরতে জল পেরিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রবীণ নাগরিক, শিশু ও স্কুলপড়ুয়াদের সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। জল জমে থাকার কারণে যানবাহন চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন জল জমে থাকলে মশাবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নেতাজী সুভাষ ক্রীড়াঙ্গন। বহু বছর ধরে এই মাঠে মাথাভাঙ্গা ও আশপাশের এলাকার অসংখ্য ক্রিকেটার, ফুটবলার এবং অন্যান্য খেলোয়াড় নিয়মিত অনুশীলন করেন। কিন্তু বর্তমানে মাঠের বড় অংশ জলমগ্ন হয়ে পড়ায় অনুশীলন বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা। ফলে জেলা ও রাজ্যস্তরের প্রতিযোগিতার প্রস্তুতিও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ।
মাথাভাঙ্গা মহকুমার ক্রিকেট কোচ প্রণয় সাহা বলেন,
“নতুন রাস্তা তৈরির সময় যদি সঠিক পরিকল্পনা করে জলনিকাশি ব্যবস্থার ব্যবস্থা করা হতো, তাহলে আজ এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। শুধু ক্রীড়াঙ্গন নয়, আশপাশের রাস্তাঘাট ও বাড়ির সামনেও জল জমে রয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি খেলোয়াড়দেরও প্রতিদিন সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। মাঠে জল থাকায় নিয়মিত অনুশীলন করা সম্ভব হচ্ছে না, যা খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের ওপরও প্রভাব ফেলছে।”
মাঠে অনুশীলন করতে আসা একাধিক যুবকও একই অভিযোগ তুলে বলেন, বৃষ্টির মরশুমে মাঠে কিছুটা জল জমা স্বাভাবিক হলেও এবার পরিস্থিতি অনেক বেশি খারাপ। দিনের পর দিন মাঠে জল জমে থাকায় তারা অনুশীলনের সুযোগ পাচ্ছেন না। অনেকেই বাধ্য হয়ে অন্য মাঠের খোঁজ করছেন। তাঁদের দাবি, শুধু সাময়িকভাবে জল সরিয়ে দিলেই হবে না, স্থায়ীভাবে জলনিকাশির উন্নতি করতে হবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতি বর্ষাতেই এই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হলেও এখনও পর্যন্ত স্থায়ী কোনও সমাধান হয়নি। নতুন রাস্তা নির্মাণের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে বলে তাঁদের দাবি। দ্রুত নিকাশি নালার সংস্কার, জল বেরোনোর বিকল্প ব্যবস্থা এবং রাস্তার পাশে কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এলাকাবাসীর বক্তব্য, উন্নয়নের কাজের সঙ্গে যদি যথাযথ পরিকল্পনা ও পরিকাঠামোগত ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে সেই উন্নয়নই সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই বর্ষা মরশুমে বারবার একই সমস্যার মুখোমুখি না হতে প্রশাসনের কাছে দ্রুত হস্তক্ষেপ এবং স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, খেলোয়াড় ও ক্রীড়াপ্রেমীরা।

